মেলার বাহিরে আরেক মেলা !
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বই মেলা

মেলার বাইরে আরেক মেলা !

Book Fairপ্রতি বছর ভাষা অন্দোলনকে স্মরণ করে বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী আয়োজিত হয় অমর একুশে বইমেলা। আর এই মেলাকে নিয়ে মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার বইতে থাকে প্রতিটি মুহুর্ত। মেলা সস্প্রসারিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। তবে মেলার বহিরে- টিএসসি থেকে দোয়েল চত্ত্বর পর্যন্ত আরেক মেলা তৈরি হয়েছে। এ যেন মেলার বাহিরে আরেক মেলা।

বই বিক্রেতারা  তাদের ছন্দের তালে তালে বাইছ্যা লন ৬০ টাকা, দেইখ্যা লন ৬০টাকা, যেইডা লন অর্ধেকে, বাইছ্যা লন অর্ধেকে এভাবে নানা স্লোগানে মুখরিত করে রেখেছে ফুটপাতের দোকানের আশপাশ।

মূল মেলার বাহিরে বই থেকে শুরু করে হাঁড়ি-পাতিল, ফুল, মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং খাবারের মধ্যে চিনাবাদাম থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। বাংলা একাডেমির বই শতকরা ২৫ ভাগ কমিশনে বিক্রি হলেও মেলার বাহিরে আরেক মেলায় বিক্রি হচ্ছে শতকরা ৫০ ভাগ কমিশনে।

বাইরের মেলায় দেখা গেছে, জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ সমরেশ মজুমদার, ডা. লুৎফর রহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ইমদাদুল হক মিলনসহ বেশ কয়েকজন লেখকের বই পাওয়া যাচ্ছে।

এই বইয়ের বিষয় নিয়ে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিও খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয় বলেই মনে করছেন প্রকাশক ও লেখকরা। সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে স্টলে পাওয়া প্রকাশনীগুলো বিক্রি করছে ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা বিভিন্ন বই। প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিক্রিত রুচির যৌন উত্তেজক বিভিন্ন নিষিদ্ধ বই।

অনেকে কমদামে পেয়ে নিয়ে নিচ্ছে তাদের পছন্দমতো বইগুলো। যার কারণে অনেকটাই হতাশা প্রকাশ করেছেন মেলার ভেতরে অবস্থানরত স্টলগুলোর মালিকরা।

ভেতরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও একাডেমী প্রাঙ্গণের বাইরের স্টলগুলো নীতিমালা ভাঙার এক প্রকার অলিখিত প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বাহিরের স্টলগুলোর কারণে প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে মেলার সৌন্দর্য্য। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের অনেকে একই বই অনেক কম দামে বাহিরে পাচ্ছে। যার কারণে প্রায়ই বাহিরের খোলামেলা স্টলগুলোতে আগত দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় চোখে পড়ার মতো।

তবে অনেকে আবার বলেছেন ভিন্ন কথা। তাদের কথা হল বাহিরের এ দোকান গুলো মেলার সৌন্দর্য্য বাড়ায়। এরা যদি না থাকে তাহলে মেলাকে মেলাই মনে হয় না।

কেউ কেউ বলছেন, এই মেলায় অনেক খাবার দাবার আছে। মেলায় এসে কিছু খাব না তা হয় নাকি। কিন্তু তাদেরকেও একটা নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে যেন তারা মেলার সীমানার এ প্রান্ত থেকে ঐপ্রান্তে থাকবে। তাদের নিয়ে যেন কোন প্রকার বানিজ্য না করে এ দিকেও খেয়াল রাখা দরকার । বরাবর শোনা যায় ফুটপাতের দোকান নিয়ে বানিজ্য হয়। এগুলোও ঠেকাতে হবে মেলার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য।

কথা হলো আদর্শ প্রকাশনীর ইসমাইল হোসেনের সাথে, তিনি বলেন, অনেক বই বিক্রি সম্পূর্ণ অন্যায়। এ বিষয়ে অনেকবার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবু তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দূর্বলতা রয়েছে বলে মনে তিনি।

বিপ্লবীদের কথা প্রকাশনির শেখ রফিক বলেন, যেখানে আমরা ৭৫টাকায় বই বিক্রি করি সেখানে বাহিরে ২৫টাকায় বই বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে আমরা কর্তৃপক্ষকে অনেকবার বলেছি কিন্তু তারা কোন উদ্ধেগ নেয়নি। পুলিশও তাদের ব্যাপারে তেমন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।

বাহিরের রাস্তায় ডেকে ডেকে এক দাম ষাট টাকা বলে দর্শনার্থীদের ডাকছেন মো. হাসান। তিনি বলেন, নীলক্ষেতে আমাদের দোকান। প্রতিবছর আমরা আসি মেলায়। পুলিশ মাঝে মাঝে তুলে দেয়। কিছুক্ষণ পরে উঠিয়ে দিলে আবার বসি। মেলা শেষে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এ বিক্রি।

কথা হলো আরেক বিক্রেতা সুমনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাই আমাদের প্রতিদিনই পুলিশ তুলে দেয়। মাঝে মাঝে কর্তৃপক্ষও। তবে কি করবো আমাদেরও তো চলতে হয়। বিক্রি না হলে খাবো কি? পেটের ধান্ধায় আসতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক (জনসংযোগ ও সমন্বয়) মোর্শেদ আনোয়ার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আপনি পরিচালক অথবা মহাপরিচালক এ ব্যাপারে ভালো জানেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শাহিদা খাতুন বলেন, আমরা তাদেরকে বারবার বলেছি। নিরাপত্তা বাহিনীকেও এ ব্যাপারে অনেকবার বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে শুধু আমাদের নয় প্রকাশনী স্টলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা তাদের যত দ্রুত সম্ভব উচ্ছেদ করার ব্যবস্থা করবো।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে। আমি মেলা কমিটিকে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। আশা করছি আজকালের মধ্যেই এগুলো উচ্ছেদ হয়ে যাবে।

এসএস/সাকি

 

 

 

 

 

 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ