আগামি দিনের অর্থনীতি হবে জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি: গভর্নর

0
43
green banking
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান

bb governerবাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের আগামি দিনের অর্থনীতি হবে জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি। আর অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে লেখকদের লেখার মাধ্যমে যোগ্য লোক তৈরি করতে হবে।’

সেই সাথে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে লেখক ও প্রকাশকদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

বুধবার বিকেলে রাজধনীর রূপসী বাংলা হোটেলে মাইক্রো ও ক্ষুদ্র  ঋণের আওতায় সৃজনশীল  বই প্রকাশকদের জন্য ঋণ প্রদানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহসান খসরু, এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ চৌধুরী, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট  (বিআইবিএম) এর এসএমই কনসালটেন্ট সুকোমল সিংহ চৌধুরী। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, নানাবিধ কারণে আমাদের প্রকাশনা শিল্প আজ হুমকির সম্মুখীন। তাই এই শিল্পকে উৎসাহিত করতে জ্ঞান ও সৃজনশীল বই প্রকাশকদের (যাদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা) সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদহারে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

বাংলা বইয়ের বাজার সীমিত হয়ে পড়া, বইয়ের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সর্বোপরি পাইরেসির দৌরাত্বে সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশনাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার পাবেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, এই ঋণ সুবিধার ফলে জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতির পাটাতন শক্তিশালী হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরির প্রক্রিয়াকেও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি কিংবা এ ধরনের স্বীকৃত সমিতির সদস্যগণ এ তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবেন বলেও তিনি জানান।

এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের ফলে এখন থেকে মাইক্রো ও ক্ষুদ্র  ঋণের আওতায় সৃজনশীল  বই প্রকাশের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ পাবেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুন: অর্থায়নের আওতায় চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক থেকে এ ঋণ সুবিধা পাবেন তারা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুন:অর্থায়নের প্রকল্পের আওতায় সৃজনশীল প্রকাশকগণ সর্বচ্চো ১০ শতাংশ (ব্যাংক রেট +৫ শতাংশ) সুদহাওে চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক ও নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন সুবিধা পাবেন। এই জন্য ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যায়ংকের এই ব্যাতিক্রম উদ্যোগে সারা দিয়ে এবি ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিডেট সৃজনশীল প্রকাশকদের জন্য পৃথক ঋণ সুবিধা চালু করেছে। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিনটি প্রতিষ্ঠান ছয় জন সৃজনশীল প্রকাশককে সর্বমোট ৮৪ লাখ টাকা ঋণ চেক হস্তান্তর করেন।