অর্থপাচার রোধে হচ্ছে বিশেষ সেল
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

অর্থপাচার রোধে হচ্ছে বিশেষ সেল

NBR_Takaপ্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার (১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) পাচার করে নিয়ে যায়। এসব রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আন্তর্জাতিক কর বিভাগ কাজ করলেও তা কর ফাঁকি ও মানিলন্ডারিং রোধে কার্যকর ভুমিকা রাখতে না পারায় এবার ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল গঠন করছে প্রতিষ্ঠানটি। আর এ সেল সফল হলে সম্পদ হস্তান্তর, আন্ডার ইনভয়েজ ওভার ইনভয়েজ রোধের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল পরমিাণ রাজস্ব আদায় হবে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও বিশ্লেষক সূত্রে জানা যায়, বহুজাতিক কোম্পানির শাখাগুলো মূল কোম্পানির কাছ থেকে কোনো পণ্য নিলে তার দাম অনেক বেশি দেখিয়ে ওই অর্থ বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। আবার আমদানির সময় দাম বেশি দেখিয়ে লাভ কম দেখানো হয়, যাতে কর কম দিতে হয়। আর কর ফাঁকি দিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে দাম কম দেখায় কোম্পানিগুলো। সাধারণত বিদেশি কোম্পানিগুলোর শাখা কোম্পানি সুদ বা লাভ বা কোনো সম্পদ বা কোনো পণ্যের মূল্য মূল কোম্পানিতে পাঠায়। এটাকে ‘ট্রান্সফার প্রাইসিং’ বলা হয়। ট্রান্সফার প্রাইসিং অবৈধ নয়, বরং যৌক্তিক। কেননা বিদেশি কোম্পানি এদেশে বিনিয়োগ করে ব্যবসা করে। তারা পণ্যের দাম এবং লভ্যাংশ অবশ্যই মালিক বা মূল কোম্পানিকে পাঠাতে পারে। কিন্তু ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রে মূল্য কারসাজি ঘটে অহরহ। নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে ট্রান্সফার প্রাইসিংকে অপব্যবহার করে কোম্পানিগুলো বিদেশে অর্থপাচার করে এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্বও ফাঁকি দেয়। শুধু মাত্র শাখা কোম্পানি এবং মূল কোম্পানি ট্রান্সফার প্রাইসিং কারসাজির সঙ্গে জড়িত, এমন নয়। পৃথক পৃথক কোম্পানি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মূল্য কারসাজি করে থাকে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচার হয়—এমন প্রধান ১০টি দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।  ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৩৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই হিসেবে প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আর এ অর্থপাচার সবচেয়ে বেশি হয় বহুজাতিক কোম্পানির দ্বারা। যারা ট্রান্সফার প্রাইসিং এর সুবিধা ভোগ করে এ অর্থ পাচার করে। এর ফলে এনবিআর প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়।  এ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব যাতে সরকার না হারায় সেজন্য এনবিআরের আন্তর্জাতিক কর বিভাগ ২০১২ সাল থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করে। তবে এ বিভাগ মানি লন্ডারিং রোধে কার্যকর ভুমিকা রাখতে না পারায় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আন্তর্জাতিক কর) পারভেজ ইকবালের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।

নতুন এ সেলটি এনবিআরের কর বিভাগের সদস্যদের কর আদয়ের কৌশল ও স্কটহোল্ডারদের সাথে তাদের সর্ম্পকের বিষযে প্রশিক্ষণ দিবে। ট্রান্সফার প্রাইসিং পদ্ধতির অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করবে এ সেলটি। এছাড়া এ সেলটি ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের ডেটা ব্যজ তৈরির মাধ্যমে এর স্বচ্চতা আনতে ভুমিকা পালন করবে।

এবিষয়ে এনবিআরের ২য় সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে রাজস্ব বোর্ডের একটি টিম রয়েছে। এটি বর্তমানে ১ম সচিব সাব্বির আহমেদের অধীনে রয়েছে। তবে ট্রান্সফার প্রাইসিং এর অপব্যবহার করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার করছে তা রোধে এনবিআরের সদস্য পারভেজ ইকবালের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি সেল গঠন করা হচ্ছে। যারা সঠিক পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে সম্পদ হস্তান্তর, আন্ডার ইন্ভয়েজ ওভার ইনভয়েজ রোধ করে প্রতিবছর বিপুল পরমিাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ