৯৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে

ভোটের দিন
ছবি: ফাইল ছবি

ভোটের দিনশুরু হলো চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। প্রথম দফায় ৯৭টি উপজেলায় এ ভোট গ্রহণ কার্যক্রম চলবে।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফায় ৪০ জেলার ৯৭ উপজেলায় ভোট শুরু হয়। ভোটগ্রহন চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপজেলা এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে মনে করছে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। এবার মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৮ হাজার ১৭২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ২ হাজার ২৭৪ প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটারদের জন্য নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, উৎসবমুখরভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ ভোটারদের নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন বরদাশত করা হবে না।”

এই পর্বে গাজীপুরে ভোট হচ্ছে কেবল কাপাসিয়া উপজেলায়। রিটার্নিং অফিসার ও গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহনওয়াজ দিলরুবা খান জানান, সকাল ৮টায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শুরু হয়েছে। কোথায় কোনো গোলযোগের খবর তারা পাননি।

নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দুদিন আগে থেকেই স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। তারা মোট ৫ দিন নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করবে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ আনসার বাহিনী তো রয়েছেই। এছাড়া মাঠে থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালতও।

প্রথম দফার প্রচারণা গত সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি ইতোমধ্যে জারি করেছে ইসি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। তা ভোটগ্রহণের ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। কোনো ব্যক্তি কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোষী সাব্যস্ত হলে সেই ব্যক্তি ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত বা অনধিক ৫০ হাজারর টাকা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্য মতে সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া থাকছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি।

এবার মোট ভোটারের ৮১ লাখ পুরুষ, ৯১ হাজার ৫৩৭ জন, মহিলা ভোটার ৮২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩৫ জন।

ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৬ হাজার ৯৯৫টি, ভোটকক্ষ ৪৩ হাজার ২৯০টি।

প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে ৬ হাজার ৯৯৫ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থাকছেন। সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা প্রতি ভোটকক্ষের জন্য এক জন করে মোট ৪৩ হাজার ২৯০ জন। পোলিং কর্মকর্তা থাকছেন ৮৬ হাজার ৫৮০ জন।

নির্বাচন কমিশন প্রথম দফায় ১০২টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে রংপুরের চারটি (সদর, পীরগাছা, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া) উপজেলায় ভোট স্থগিত করা হয়।

এ ধাপের ভোটে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত হননি। চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ১৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায়।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে একজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শরীয়তপুরের জাজিরা ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় একক প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

উপনির্বাচনের কারণে পীরগঞ্জ উপজেলার ভোট পিছিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি করা হয়। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩, ভাইস চেয়ারম্যানে ৮ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দুই লাখ ৬২ হাজার ৭৩৫ ভোটারের জন্য কেন্দ্র রয়েছে ১০৬টি।

নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সোমবার  থেকে ৫ দিনের জন্য মাঠে থাকছে সেনাবাহিনী। সঙ্গে থাকছে র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্য।

উপজেলা নির্বাচনে সাংবাদিক, দেশীয় এনজিও এবং বিদেশীরা উপজেলা নির্বাচন পর্যবেক্ষনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চারটি সংস্থার ৭১ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক করছেন। এগুলোর মধ্যে এশিয়া ফাউন্ডেশনের ২, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ৫৪, জাপানের ৯ এবং এনডিআইয়ের ৬ জন।

এছাড়া ২৬ দেশীয় এনজিওর ৬ হাজার ৫৮৯ জন পর্যবেক্ষক থাকছেন।

দ্বিতীয় ধাপে ১১৭ উপজেলায় ২৭ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ৮৩ উপজেলায় ১৫ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৯২ উপজেলায় ২৩ মার্চ ভোট হবে।

পঞ্চম ধাপের অর্ধশতাধিক উপজেলার তফসিল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। বাকি উপজেলায় ষষ্ঠধাপে ভোট হবে মে মাসে।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে চারদফায় ৩৯৪টি উপজেলায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নিবাচন কমিশন। এগুলোর মধ্যে প্রথম দফায় ৯৭টি উজেলায় ভোটগ্রহণ চলেছে আজ, দ্বিতীয় দফায় ১১৭টি উপজেলা ভোটগ্রহণ হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় দফার ৮৩টি উপজেলার ভোটগ্রহণ হবে ১৫ মার্চ এবং চতুর্থ দফার ৯২টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২৪ মার্চ।

এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার পঞ্চম দফার তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আর ভোটগ্রহণ হবে ৩১ মার্চ।

প্রথম দফায় ১০২টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করা হলেও সীমানা জটিলতায় কারণে রংপুরের ৪টি উপজেলার ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এগুলো হলো- রংপুর সদর, পীরগাছা, কাউনিয়া ও গংগাচড়া। পীরগঞ্জের ভোট গ্রহণ হবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। সে অনুযায়ী ১৯ তারিখে ভোট গ্রহণ হচ্ছে ৯৭টি উপজেলায়।

এমআর