ট্যানারি সরানোর খরচ যোগাতে জাইকা’র দ্বারস্থ হচ্ছেন মালিকরা

tannery bangladesh

tannery bangladeshহাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য খরচ বাবদ জাইকা থেকে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। তারা বলছেন সরকার এ বাবদ যে খরচ দেওয়ার কথা বলেছে তা যথার্থ নয়। তাছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ ট্যানারি স্থানান্তর করাও সম্ভব নয়। এ জন্য দরকার প্রচুর টাকা। এই ঋণ চেয়ে জাইকাকে  সম্প্রতি একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন তারা ।

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ)-এর সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের জানান, ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার জন্য  অল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দরকার। এর পুরো খরচ ট্যানারি মালিকদের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। যদি পুরো খরচ তাদের সামলাতে হয় তবে তাদের পক্ষে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দায় হয়ে পড়বে।

তিনি জানান, এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমানের সাথে আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু গভর্ণর এ ব্যাপারে কোনো প্রকার নিশ্চয়তা দেননি। তিনি বলেছেন, অন্য কোনো উপায় খুজে বের করা যায় কিনা সে-ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করে  দেখবেন তিনি।

গত অক্টোবর মাসে হাজারিবাগ থেকে সাভারে চামড়া কারখানা সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের সাথে ট্যানারি মালিকদের একটি চুক্তি হয়। এ সময় সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়। আর প্রকল্প বাবদ ৮০ শতাংশ খরচ (৬৬৩ কোটি টাকা) দিতে রাজি হয়। এছাড় বাকি ১৬৫ কোটি (২০ শতাংশ) টাকা মালিকদের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা বলা হয়।

তাহের জানান, ট্যানারি মালিকরা সাভারে ট্যানারি সরানোর আগেই অর্ধেক ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরনের পরিমাণ খুবই সামান্য। ১০ বছর আগে থেকে ২৫০ কোটি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু এই সময়ে তা যথার্থ নয়।

সূত্র জানায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বিসিকের সঙ্গে ২০০৩ সালে ট্যানারি মালিকদের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের জন্য মালিকদের ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপুরণ দেওয়া হবে।  কিন্তু পরবর্তীকালে দ্বিতীয় ধাপে ২০০৭ সালে সরকার ও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আরেকটি  সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এতে সরকারের উদ্যোগে সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (সিইটিপি) নির্মাণ এবং ট্যানারি শিল্প মালিকরা ১৫ বছর মেয়াদী কিস্তির মাধ্যমে এর নির্মাণ ব্যয় সরকারকে পরিশোধ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

 

সুত্রটি আরও জানায়, এদিকে সেই সময় থেকে বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে সিইটিপি নির্মাণসহ চামড়া শিল্পনগরীর বিভিন্ন ব্যয়সহ মোট বাজেট বেড়ে যায়। ফলে খরচ মেটাতে মালিকপক্ষও নতুন চুক্তির কথা বলে আসছেন।

উল্লেখ্য, প্রথম প্রকল্পের খরচ দ্বিতীয় বারের প্রকল্পে দ্বিগুণ হয়ে গেছে । এখন ব্যয়ের পরিমাণ এসে দাড়িয়েছে ১১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। যেখানে প্রথম প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল ১৭৫ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে। আর দ্বিতীয় বারের প্রকল্পে এই খরচ বেড়ে দাড়ায় ৫৪৫ কোটিতে । আর এখন তা দ্বিগুণ হয়েছে।