চার ব্রোকারহাউজকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা

বিএসইসি
বিএসইসি লোগো

bsec-logoসিকিউরিটিজ আইন লংঘনের দায়ে চার সিকিউরিটি হাউজকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।আজ মঙ্গলবার বিএসইসির ৫১০ তম কমিশন সভায় এ জরিমানা করা হয়।

সিকিউরিটিজহাউজগুলো হচ্ছে এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, গেটওয়ে ইক্যুইটি রিসোর্স লিমিটেড,ট্রান্সকন সিকিউরিটিজ লিমিটেড,খুরশীদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

এনবিএল সিকিউরিটিজ:এনবিএল সিকিউরিটিজকে অপরাধে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ চারটি হচ্ছে-গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ আকারে ৫ লাখ টাকার বেশি জমা নেওয়া,প্রতিষ্ঠানের পরিচালককে মার্জিন ঋণ দেওয়া,সর্বোচ্চ মার্জিন ঋণ সীমা লংঘন করে একক বিনিয়োগকারীকে ১০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়া  এবং এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড স্টক ডিলার সনদ পাওয়ার পর দুই বছর পর্যন্ত লেনদেনে অংশ না নেওয়া।

গেটওয়ে ইক্যুইটি রিসোর্স:এই হাউজকে আইনের চারটি ধারা লংঘনে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিম ডিলার হিসাবের পরিবর্তে তার বিও হিসাবের মাধ্যমে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন।বিএসইসির পরিদশর্ক দল এই স্টক ব্রোকারের ৩০/০৬/১২ সমাপ্ত বছরের নিরক্ষীত আর্থিক বিবিরণী বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, ওই পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ নিরীক্ষীত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে।কিন্তু ৩০/০৬/২০১২ তারিখের ডিলার হিসাবের পোর্টফোলিও প্রতিবেদন উল্লেখিত অর্থের কোন বিনিয়োগ পাওয়া যায় নি।কিন্তু ওই ব্যাক্তির পোর্টফোলিও প্রতিবেদন থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়।অর্থাৎ রেজাউল করিমকে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন রিটাইন্ড আরনিংস থেকে ঋণ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার জন্য মার্জিন ঋণ দেওয়া।এছাড়া সিকিউরিটিজ হাউজটি কনসুলেটেড কাস্টমার্স হিসাবের পরিবর্তে কিছু লেনদেন (রিসিপ্ট/পেমেন্ট)দুটি কাস্টমারে ঘন ঘন পরিচালনা করেছে।

এছাড়া ৩০ জুন, ২০১১ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে নির্ধারিত ৪ মাসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি।

ট্রান্সকন সিকিউরিটিজ:একইভাবে এই হাউজকেও চারটি আইন ভাঙ্গার দায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

নন মার্জিনেবল ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণ দেওয়া,মার্জিন ঋণের চুক্তি ছাড়া ক্যাশ হিসাবে ঋণ দেওয়া, মার্জিন ঋণ  সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে কমিশনের নির্দেশনা লংঘন এবং স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তির তারিখ ১৭/০২/২০০৯ থেকে পরিদর্শন চলাকালীন সময়ে লেনদেনে অংশগ্রহণ করে নি সিকউরিটিজ হাউজটি।এতে নিবন্ধন সনদের শর্তাবলীর সেকশন ১১ লংঘন হয়েছে।

এছাড়া খুরশীদ সিকিউরিটিজকে তিনটি আইন লঙ্ঘনের কারণে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।মার্জিন ঋণের চুক্তি ছাড়া ক্যাশ হিসাবে ঋণ প্রদান এবং ৫ লাখ টাকার উপরে উপরে নগদ গ্রহণ করেছে হাউজটি।

এছাড়া সিকিউরিটিজ হাউজটি ২০১৩ সনের বিভিন্ন তারিখে কোম্পানির শেয়ার শর্ট সেলের মাধ্যমে সিইকউরিটিজ আইন লংঘন করেছে।