দিনাজপুরে বৃষ্টিতে ইটভাটার ৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি, উৎপাদন বন্ধ
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রংপুর

দিনাজপুরে বৃষ্টিতে ইটভাটার ৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি, উৎপাদন বন্ধ

Dinajpur Brick Photoদিনাজপুরে গত ৩ দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে ইটভাটাগুলোর কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষতি  হয়েছে। ইটভাটা মালিকরা বলছেন, কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ইট উৎপাদন। আর এতে তাদের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে।

দিনাজপুর ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরে মোট ২২০টি ইটভাটা রয়েছে। কিন্তু গত ৩ দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে প্রতিটি ইটভাটার গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠে শুকাতে দেওয়া ওইসব ইটগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে পুনরায় সেগুলোকে মাঠ থেকে তুলে জমা করতে হবে। পরে মাঠ পুরোপুরি শুকিয়ে পুনরায় ইট তৈরি করা হবে। এতে করে লাগবে বাড়তি শ্রমিক খরচ। বৃষ্টিতে ইটগুলো ভিজে যাওয়ায় মাঠ থেকে অপসারণ ও নতুন করে ইট তৈরির কারণে প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হবে। এই হিসেবে দিনাজপুর জেলায় ২২০টি ইটভাটায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা।

দিনাজপুর বিরল উপজেলার মেসার্স সোনালী ব্রিক্স’র ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন, মেসার্স নিউ মুক্তা ব্রিক্স’র প্রো: রফিকুল ইসলাম, মেসার্স পানামা ব্রিক্স’র ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, মেসার্স তামান্না ব্রিক্স’র প্রো: হামিদুর রহমান, মেসার্স প্রতিধ্বনি ব্রিক্স’র প্রো: রেজাউল ইসলাম, মেসার্স বি আর বি ব্রিক্স’র প্রো: রবিউল ইসলাম জানান, বৃষ্টির আগে ভাটাগুলোতে প্রায় ১০ লাখ করে কাচা ইট ছিল। বৃষ্টিপাতের ফলে এই ইটভাটার সব ইটই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ইট মাঠ থেকে অপসারণ করে পুনরায় তৈরি করতে হবে। এতে এই ইটভাটাগুলোতে প্রায় ২০ লাখ টাকার মত লোকসান গুনতে হবে।

শুধু তাই নয় বৃষ্টির কারণে নতুন করে ইটভাটাগুলোকে উৎপাদনে যেতে লাগবে আরও এক সপ্তাহের অধিক সময়। ফলে ওই সময়টিতে যে পরিমাণ ইট উৎপাদিত হতো সেটিও এখন লোকসানের খাতায় যোগ করতে হবে বলে জানান তারা।

এদিকে, ইট তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানালেন, গত ৩ দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে সম্পূর্ণরুপে তাদের কাজ বন্ধ ছিল। এতে করে ওই দিনগুলোতে তারা কোনো বেতন পাননি।

ইটভাটা শ্রমিক জুলফিকার জানালেন, হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে যে ইটগুলো তৈরি করা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ৩ দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এই দিনগুলোতে কোনো বেতন পাইনি সে। এখন মাঠ থেকে ভিজে যাওয়া ইটগুলো অপসারণ করানো হচ্ছে। যতদিন এই কাজ শেষ হবে না ততদিন পর্যন্ত কোনো বেতন পাবে না।

শ্রমিক হামিদুল ইসলাম জানান, পেটে-ভাতেই কাজ করতে হবে। তাছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আমাদের যেমন ক্ষতি ঠিক তেমনি ক্ষতি মালিকদেরও। মাটি অপসারণ না করানো হলে কোনো উৎপাদন শুরু হবে না আর আমাদের কাজও শুরু হবে না। তিনি আরও জানান, দিন হাজিরা ভিত্তিতে প্রতিজন শ্রমিক ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা করে উপার্জন করেন।

দিনাজপুর জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ-সম্পাদক মোজাম্মেল বুকুস জানান, হঠাৎ করে বৃষ্টিপাতের কারণে আমাদেরকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কাচা ইট ভিজে যাওয়ায় পুরোপুরিভাবে ইটভাটাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে আরও কয়েকদিন লাগবে। কাঁচা ইট নষ্ট ও নতুন করে উৎপাদনে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ইটভাটাকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে লোকসান গুনতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ