রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর গুলির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

0
85
Highcourt

হাইকোর্টরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। সংগঠকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও ১৪ জন শিক্ষক মিলে এই রিটটি আবেদন করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকোর্স চালু ও বিভিন্ন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের প্রকাশ্য গুলি চালানো কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুল চেয়েছেন রিটকারীরা। গুলি চালানোর আগে ও পরে কী কী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কী কারণে গুলি চালানো হয়েছে তার ব্যাখ্যাসহ হাইকোর্টে কেন প্রতিবেদন দিতে বলা হবে না তাও জানাতে আদেশ চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার ও রাজশাহীর মতিহার থানার ওসিকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, গুলি ছুড়লে নিয়ম অনুযায়ী পুলিশকে দুটি প্রতিবেদন দিতে হয়। এর একটি সংক্ষিপ্ত, অন্যটি বিস্তারিত। দুই প্রতিবেদনই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নিয়ম।

আবেদনকারীদের সন্দেহ, রাজশাহীর ঘটনায় ওই ধরনের কোনো প্রতিবেদন পুলিশ দেয়নি।

পুলিশ ইতোমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে। রিটকারীদের সন্দেহ, নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কোনো তদন্ত ছাড়াই পুলিশ নিজেদের কাজকে বৈধতা দিতে মামলা করেছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, দেশের অন্য নাগরিকদের মতো পুলিশও আইন মানতে বাধ্য। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে আইন মানাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর হলেও নিজেদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কোমল।”

পুলিশের এ ধরনের আচরণে সংবিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন কোনো অবস্থাতেই অবৈধ ছিল না। সেদিন পুলিশের অস্ত্র ব্যবহার একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল।”

রিটের বাদি হিসাবে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আকমল হোসেন, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক স্বপন আদনান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক রফিক উল্লাহ খান, মেঘনা গুহঠাকুরতা, নারী অধিকার কর্মী শিপ্রা বোস, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক মানস কুমার চৌধুরী, স্বাধীন সেন, ফাহমিদুল হক, মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান, মেহের নিগার, সামিনা লুৎফা নিত্রা ও অরূপ রাহী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ওপর কেন পুলিশ গুলি চালিয়েছে- তা জানতে চেয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি একই বিবাদিদের উকিল নোটিস দিয়েছিলেন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

উকিল নোটিসে বলা হয়, ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিভিন্ন টেলিভিশনের ভিডিওতে আমরা দেখেছি পুলিশ এবং কিছু শিক্ষার্থী আধুনিক অস্ত্র দিয়ে গুলি করে সান্ধ্যকোর্স বাতিল ও টিউশন ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলনরত অনেক শিক্ষার্থীকে আহত করে। পরের দিনের পত্রিকায়ও ওই ঘটনা এসেছে।