বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক কাঠামোর বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়েছে : বারাকাত

0
42
barakat
বক্তব্য রাখছেন অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত

barakatবাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট অথনীতিবিদ আবুল  বারাকাত বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ অনেক সময় এগুচ্ছে আবার অনেক সময় পিছনে হাটছে। গত চার দশকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতিধারা যথেষ্ট মাত্রায় সাক্ষ্য দেয় যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বৈষম্যহীন অর্থনীতি-সমাজ-রাষ্ট্র ও অসাম্প্রদায়িক মানস কাঠামোর বিকাশ প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্থ হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে ‘শহীদ ড. শামসুজ্জোহা স্মারক বক্তৃতায় ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি : কাঠামোগত বিষয়াদি ও উত্তরণ সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অথনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অর্থনীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের সুযোগে কিছু গোষ্ঠীর মানুষ অঢেল বিত্ত-সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে বাজার, সরকার ও রাষ্ট্র। এ প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাদী অর্থনীতির মুক্তবাজার দর্শনের আওতায় দারিদ্র ও বৈষম্য বৃদ্ধি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এর উত্তরণ সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রসায়ন বিভাগের সভাপতি মু. এন্তাজুল হকের সভাপতিত্বে স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে শহীদ ড. জোহার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন শহীদ ড.শামসুজ্জোহার জীবনালেখ্য উপস্থাপন করেন। ড. জোহার মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর ‘জোহা স্মারক বক্তৃতা’র আয়োজন করে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ।

এর আগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাবিতে পালিত হয়েছে শহীদ ড. শামসুজ্জোহার ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আলোচনাসভা ও জোহা স্মারক বক্তৃতার অনুষ্ঠিত হয়। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা শহীদ জোহার মাজার ও জোহা স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

এরপর রসায়ন বিভাগ ও শহীদ শামসুজ্জোহা হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, বিভিন বিভাগ, পেশাজীবী সমিতি ও ইউনিয়ন, এ্যালামনাই এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রভাত ফেরীসহ শহীদ জোহার মাজার ও স্মৃতিফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ করে। ড. জোহার স্মরণে সকাল ৯টায় রাবি অফিসার সমিতি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের তৎকালীন শিক্ষক ড. মুহম্মদ শামসুজ্জোহা প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত হন। তিনিই এদেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত। দিনটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শিক্ষক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারে দাবি ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পৌঁছালে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের বাধা দেয়। এ সময় সেনারা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করতে উদ্যত হলে তৎকালীন প্রক্টর শামসুজ্জোহা গুলি না করতে বার বার অনুরোধ করেন। সেনারা সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে ড. জোহার ওপরেই গুলি চালান।

গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে তৎকালীন মিউনিসিপ্যাল অফিসে একটা টেবিলের উপর ফেলে রাখা হয় বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। ৪টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জিক্যাল রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।