‘আমাদের হল ফিরিয়ে দাও’

0
42

OLYMPUS DIGITAL CAMERAবেদখল হওয়া হল উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি দখলবাজরা দীর্ঘ ২৯ বছর যাবত যে হল দখল করে আছে সে হল তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, ‘মেসে আর থাকবো না, হল আমাদের ঠিকানা’,  ‘আমাদের হল ফিরিয়ে দাও’ সহ নানা  শ্লোগানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেন।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাজী সেলিমের দখলে থাকা তিব্বত হলসহ বেদখলকৃত বাকি ১০টি হল উদ্ধারের দাবিতে পঞ্চমদিনের মত আন্দোলন শুরু করেন। এসময় তারা প্রথমে বিজ্ঞান ও কলা অনুষদ প্রদক্ষিণ শেষে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে জবি ক্যাম্পাসের সামনে সদরঘাট-গুলিস্তান সড়কটিতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রায় আধঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এতে করে সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ করতে থাকে। আর তাদের বড় একটি অংশ সেখান থেকে জড়ো হন রায়সাহেব বাজার মোড়ে। সেখানেও আধাঘণ্টার অধিক সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আন্দোলন করতে থাকে।

এরপর ধীরে ধীরে শিক্ষাথীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকলে আন্দোলনটি নয়াবাজার মোড় পর্যন্ত গড়ায়। নয়াবাজার মোড়ে তারা অবস্থান নেয়। এসময় তারা গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান-বাবু বাজার ব্রীজ এবং গুলিস্তান-সদরঘাট সবগুলো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি থাকায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তাদেরকে সড়ক থেকে সরাতে পারেনি।

পরে পুলিশি পাহারায় বেলা সাড়ে ১২টায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী মিছিল করতে করতে বংশাল, গুলিস্তান, সচিবালয় হয়ে পল্টন মোড় ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন।

এখানে তারা দুপুর ১টা থেকে প্রায় ৩টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দেয়। কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বেশ কয়েকটি টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

আন্দোলনের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করছে এমন সংবাদ শুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বংশী নামে একটি দ্বিতল বাসযোগে বেলা ২টায় আরও অনেক শিক্ষার্থী যোগ দেয়। এ সময় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তার দুই পাশ বন্ধ হয়ে যায়।

ধীরে ধীরে আন্দোলন তীব্র হতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ঘিরে দেওয়া হয় পুলিশি ব্যারিকেড। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামন।

এরপর রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শিবলী নোমানের নেতৃতে কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদেও অবরোধ তুলতে গেলেও তারা ব্যর্থ হন। এ সময় ওই এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিস্থিতি।

তবে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বেলা ৩টায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আন্দোলন সমাপ্ত করে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন আন্দোলনের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জগ্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দখলবাজদের হাত থেকে আমাদের হল উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। এক্ষেত্রে আমরা কোনো ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবো না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি হল দখলবাজদের হাতে আমরা সব হল ছাত্রদের জন্য চাই। আমরা বিভিন্ন মেসে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাজী সেলিম এ হলগুলো দখল করে আছে। তাদের হাত থেকে আমাদের হলগুলো দখলমুক্ত করা হোক।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন ধরে জবি শিক্ষার্থীরা হল উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন করছে। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জবি ছাত্রলীগের নেতারা। আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন নীল দল ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মকর্তা সমিতি নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।

জেইউ/