ঝিনাইদহে চার উপজেলায় বড় দুই দলের অস্তিত্বের লড়াই

0
100
upojela nirbachon

upojela nirbachonপ্রথম পর্যায়ে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ঝিনাইদহের ছয়টি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলায় আগামি ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে।

চারটি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২২ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই নির্বাচনে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থী ছাড়াও জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন।

দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন নিয়ে গ্রাম-গঞ্জে, বাজার ও চা স্টলে প্রার্থী-সর্মথক ও ভোটারদের মধ্যে চলছে জয়-পরাজয়ের শেষ হিসাব-নিকাশ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার অঙ্গীকার করে ভোট প্রার্থনা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপি-জামায়াতও ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী চার জন। এরা হলেন- কনক কান্তি দাস (আওয়ামী লীগ) কাপ-পিরিচ প্রতীক, আব্দুল আলীম (বিএনপি) আনারস প্রতীক, মুন্সী কামাল আজাদ পান্নু (বিএনপির বিদ্রোহী) টেলিফোন প্রতীক ও হারুন অর রশীদ (জাতীয় পার্টি) মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একক প্রার্থী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুকে দলের সকল সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাত জন। এরা হলেন- আতিকুল হাসান মাসুম (আওয়ামী লীগ) তালা প্রতীক, কাজী এনামুল হক মিলন (আওয়ামী লীগ) উড়োজাহাজ প্রতীক, আব্দুর রশিদ মিয়া (আওয়ামী লীগ) টিয়া পাখি প্রতীক, এনামুল হক নিলু (স্বতন্ত্র) বৈদ্যুতিক বাল্ব, দাউদ হোসেন (আওয়ামী লীগ) চশমা প্রতীক, নুর এ আলম বিপ্লব (আওয়ামী লীগ) বই প্রতীক, হাবিবুর রহমান (জামায়াত) টিউবওয়েল প্রতীক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তহুরা খাতুন (বিএনপি) কলস প্রতীক ও মিসেস শিরিনা রহমান (আওয়ামী লীগ) হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। এলাকায় ব্যাপক মিটিং, গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী কনক কান্তি দাস। বিজয় তাঁর ঘরেই আসবে বলে আশা করছেন তিনি। অপরদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা করছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলীম। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে জয় তাঁরই হবে। জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়ানো ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

শৈলকুপা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী দুই জন। মোশাররফ হোসেন সোনা শিকদার (আওয়ামী লীগ) আনারস প্রতীক ও রাকিবুল হাসান খান দিপু (বিএনপি) মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এখানে তাঁদের দুজনের মধ্যেই হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পুরুষ পাঁচজন। এরা হলেন- কামরুজ্জামান লিটন (বিএনপি) তালা প্রতীক, কামরুল ইসলাম (বিএনপি) টিউবওয়েল প্রতীক, জাহিদুন্নবী কালু (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) চশমা প্রতীক, মজিবর রহমান (স্বতন্ত্র) মাইক প্রতীক, শামীম হোসেন (আওয়ামী লীগ) উড়োজাহাজ প্রতীক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পাঁচ জন। এরা হলেন- আফরোজা নাসরিন লিপি (আওয়ামী লীগ) হাঁস প্রতীক, সুলতানা বুলবুলি (আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী) কলস প্রতীক, সেতারা আফরোজা (বিএনপি) বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক, রোকসানা আক্তার (বিএনপি) পদ্মফুল প্রতীক, স্বপ্না সুলতানা (বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি) ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় শৈলকুপা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সুলতানা বুলবুলি ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুন্নবী কালুকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এ উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রাকিবুল হাসান খান দিপু অভিযোগ করেছেন, কর্মী সমর্থকদের হত্যার হুমকি, পোস্টার ছেড়া, প্রচার মাইক ভাংচুরসহ ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।

কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনজন। শরিফুন্নেছা মিকি (আওয়ামী লীগ) মোটর সাইকেল, সিরাজুল ইসলাম (বিএনপি) আনারস ও তাজুল ইসলাম (জামায়াত) দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পুরুষ পাঁচজন। এরা হলেন- মির কাশেম আলী (আওয়ামী লীগ) উড়োজাহাজ প্রতীক, ইকরামুল হক (বিএনপি) চশমা প্রতীক, মোয়াবিয়া হোসেন (জামায়াত) মাইক প্রতীক, শাহজাহান আলী (জাতীয় পার্টি) তালা প্রতীক, শামীম আখতার (জাসদ) টিউবওয়েল প্রতীক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পাঁচ জন। এরা হলেন- নাসিমা ইসলাম (বিএনপি) ফুটবল প্রতীক, মাহফুজা খানম (স্বতন্ত্র) কলস প্রতীক, মেহেরুন্নেছা মেরী (আওয়ামী লীগ) হাঁস প্রতীক ও নামজা খাতুন (জামায়াত) সেলাই মেশিন প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এখানে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ হবে। তবে একক প্রার্থী নির্ধারন করতে পারায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিশ্চিত বিজয়ের আশা করলেও শরিক দল জামায়াতের প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি। জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ায় জয়-পরাজয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

কালীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ছয় জন। এরা হলেন- জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠাণ্ডু (আওয়ামী লীগ) টেলিফোন প্রতীক, হামিদুল ইসলাম (বিএনপি) কাপ-পিরিচ প্রতীক, নুরুল ইসলাম (বিএনপি) মোটর সাইকেল প্রতীক, ওলিউর রহমান (জামায়াত) হেলিকপ্টার প্রতীক, এএসএম আমিরুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি) আনারস প্রতীক ও বাবুল হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এ উপজেলায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বিএনপি ও জামায়াতের তিন জন প্রার্থী থাকায় একক প্রার্থী নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পুরুষ পাঁচ জন। এরা হলেন- আজিজুর রহমান (জামায়াত) বই প্রতীক, আজিজুল ইসলাম (বিএনপি) চশমা প্রতীক, ইসরাইল হোসেন (বিএনপি) উড়োজাহাজ প্রতীক, মতিয়ার রহমান (আওয়ামী লীগ) টিউবওয়েল প্রতীক, হাসনুর রশিদ মন্নু (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) তালা প্রতীক। মহিলা ভাইস চোয়ারম্যান প্রার্থী তিথী রাণী বিশ্বাস (আওয়ামী লীগ) কলস প্রতীক, শাহনাজ পারভীন (বিএনপি) হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে। এদিকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণ ভোটারাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসরাম জানান, উপজেলা নির্বাচনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা গঠিত। মোট ভোটার ৩ লাখ ২ হাজার ৫৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫৪ জন এবং মহিলা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩২ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৬টি।

১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শৈলকুপা উপজেলা। এ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ১১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৩ হাজার ৭২০ জন ও মহিলা ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৯৭ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা গঠিত। মোট ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৭ জন। পুরুষ ভোটার ৯৭ হাজার ১৫৬ জন ও মহিলা ৯৫ হাজার ৯৮১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৮৩টি। একটি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় ভোটার ৯৬ হাজার ৯৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৮ হাজার ৫১১ ও মহিলা ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন। ভোটকেন্দ্র ৪৭টি।

কেএফ