খেলাপি ঋণ: ব্যাংক-ব্যবসায়ীর পোয়াবারো

0
121
Taka
টাকা- ফাইল ছবি

Taka

ব্যাংকিং খাতে হঠাৎ কমে গেছে খেলাপি ঋণ। এক লাফে নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে। আর তা হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ সুবিধার বদৌলতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দশনা অনুসারে, অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণ পুন:তফসিলে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রায় সবাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে নিজ নিজ স্বার্থে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনো টাকা জমা না দিয়েই ঋণ পুন;তফসিল করে নিতে পেরেছে। অন্যদিকে বেশিরভাগ ব্যাংক এ সুযোগে খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখিয়ে নিজেদের দূর্বলতা আড়াল করেছে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে চার লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। আর ওই সময়ে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের আট দশমিক ৯৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ঋণ শ্রেণীকরণ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী,২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে চার লাখ ৪৩ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।আর ওই সময়ে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সে হিসেবে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন,রাজনৈতিক অস্থিরতায় যেসব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সুবিধা দেওয়াতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে। ঋণ পুনঃতফসিলীকরণসহ শ্রেণীকরণের বর্তমান কাঠামো ও নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন না এনেই ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।ফলে এতে ব্যাযকগুলোতে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানান তারা।

 

প্রতিবেদনে দেখা গেছে,বিদায়ী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৮৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হয়েছে ১৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।অথচ একই বছরের সেপ্টেম্বরে এ ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা বা ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী,তিন মাসে স্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে তিন লাখ ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা,যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা,যা মোট বিতরণ করা ঋণের চার দশমিক ৫৪ শতাংশ।এদিকে গত সেপ্টেম্বর শেষে এ খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা বা মোট ঋণের সাত দশমিক ৩০ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে বিদেশি নয় ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ২৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা, যেখানে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩০৩ কোটি টাকা,যা মোট বিতরণ করা ঋণের পাঁচ দশমিক ৪৬ শতাংশ।অন্যদিকে বিদায়ী বছরের সেপ্টেম্বরে এ ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, যা তাদের বিতরণ করা ঋণের ছয় দশমিক শূন্য দুই শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় খাতের বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ৩১ হাজার ২০৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।এ সময়ে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে আট হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা,যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।এদিকে গত সেপ্টেম্বরে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো মোট ২৯ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছিল।এ সময়ে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ছিল আট হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ শ্রেণীকরণের তিনটি পর্যায় রয়েছে।তা হলো নিম্নমান, সন্দেহজনক এবং মন্দ বা ক্ষতি।এই তিনটি পর্যায় বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হয়।