সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ পেল ভারতীয় কোম্পানি

0
108

Oil_exploration_ONGCবাংলাদেশের অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান  অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন (ওএনজিসি)। প্রতিষ্ঠানটি চার ও নয় নাম্বার ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করবে।

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লক দুটির কর্তৃত্ব বুঝে পেয়েছে। এদিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন ও বন্টনের চুক্তি করেছে পেট্রোবাংলা। পেট্রোবাংলার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর এবং ভারতের ওএনজিসির পক্ষে ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ ১৬০ পৃষ্ঠার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর পেট্রোবাংলা ভবনের কনফারেন্স রুমে পেট্রোবাংলা এবং ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশনের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এ সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী, ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোজাম্মেল হোসেন, অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশনের সিইও ডি কে সরাফ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে আমাদের দেশের জ্বালানী খাত একটি সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদের তুলনায় উৎপাদনের অভাবে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সভ্যতার এ যুগে নতুন চুক্তির আলোকে বাংলাদেশের গ্যাস উৎপাদনে ভারত ভূমিকা রাখলে তাদের সাথে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে আসতে পারবে।

বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, আমাদের বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ উৎপাদন হয় গ্যাস দ্বারা। গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সকল সমস্যা দূর হবে।

ড. তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, অগভীর সমুদ্রের তেল উৎপাদনে ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশনের চুক্তির ফলে গ্যাস উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে।

খনিজ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের সচিব মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের উৎপাদন অনেক কম। আমাদের সুযোগ থাকার পরও উৎপাদনের অভাবে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যায় না। ২৭ মিলিয়ন কিউবিক ফিট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৩ মিলিয়ন কিউবিক ফিট গ্যাস উৎপাদন করতে পারে বাংলাদেশ। নতুন এ চুক্তির ফলে গ্যাসের এ উৎপাদন অনেক বাড়বে।

ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ বলেন, বাংলাদেশের সাথে আমাদের সর্ম্পক অনেক আগে থেকেই ভালো। নতুন করে এ চুক্তির মাধ্যমে খনিজ ও জ্বালানীর ক্ষেত্রে এ সর্ম্পক আরও এগিয়ে যাবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে জ্বালানী শক্তি একটি চ্যালেঞ্জ, এ সময়ে ভারতের একটি বৃহৎ কোম্পানির সাথে চুক্তি ভিত্তিক গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানির ফলে তা মোকাবেলা করা সহজ হবে।

ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশনের সিইও ডি কে সরাফ বলেন, আমরা ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশের সাথে জড়িত আছি। বিশ্বের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে আমরা অন্যতম। আমরা মায়ানমার, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, চীন, ইরাক, ইরানের সাথে অনেক আগ থেকেই যৌথভাবে কাজ করে আসছি। আমরা বাংলাদেশের পেট্রোবাংলার সাথে নতুন করে কাজ করতে পারলে এদেশের গ্যাস উৎপাদন ও বিপনণে ভূমিকা রাখতে পারবো।

চুক্তি অনুযায়ী  ভারতের ওএনজিসি চার ও নয় নম্বর ব্লকের তেল গ্যাস অনুসন্ধান করবে। চার নম্বর ব্লকে ২ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ এবং ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চালাবে তারা। দুটি অনুসন্ধান কূপ খননসহ এ প্রকল্পে তারা ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করব।একইভাবে নয় নম্বর ব্লকে ২ হাজার ৮৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ ও ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে ওএনজিসি। দুই পর্যায়ে মোট তিনটি অনুসন্ধান কূপ খননসহ এ কাজে সাড়ে ৮ কোটি ডলার ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তিটি হয়েছে ৮ বছরের জন্য। যেকোনো গ্যাস বিক্রির লাভের ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলা ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পাবে। একইসাথে সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পেট্রোবাংলা অগ্রাধিকার পাবে।

এইউ নয়ন