ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য এখন কুমিল্লা মহানগরী

0
29
comilla

comillaকুমিল্লা মহানগরী এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্পটে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আগত লোকজন ও কুমিল্লার সাধারণ মানুষদের ছিনতাই আতঙ্কে দিন কাটছে। ছিনতাইকারীদের উৎপাতের ফলে কুমিল্লার প্রশাসন ও কুমিল্লাবাসীর সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

নগরীতে ছিনতাইকারীদের স্পটগুলো হচ্ছে- শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড, শাসনগাছা-ক্যান্টনমেন্ট রোড. রামমালা, টমছম ব্রীজ, রেলষ্টেশন রোড, পৌরপার্ক, ধর্মসাগর, ঠাকুরপাড়া, চিড়িয়াখানা রোড, চকবাজার চৌমুহনী, ধর্মপুর রেলগেট, পূবালী চত্ত্বর, সালাহউদ্দিন মোড়সহ আরও কয়েকটি স্পটে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। প্রাণ নাশের ভয়ে ছিনতাইকারীদেরকে চিনেও কিছু বলতে পারছেন না স্থানীয়রা। কারণ মামলা করলে বা স্বাক্ষী হলেও বিভিন্ন হুমকী-ধমকী ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে প্রকাশ পায়। কিন্তু প্রতিনিয়ত ছোটখাটো ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষ ও স্থানীয়দের মাঝেই থেকে যায়। গত ২/৩ দিনের ব্যবধানে ১০/১২টি ছিনতাইয়ের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা আরও জানায়,  ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে স্বর্বশান্ত হয়েও ভুক্তভোগীরা থানা-পুলিশের কাছে যেতে চাচ্ছেন না বিভিন্নভাবে হয়রানির ভয়ে।

ছিনতাইকারী চক্রগুলো সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যা রাতে ঐ সকল স্পটে উৎপেতে থাকে। ছিনতাইকারীরা বেছে নেয় নতুন নতুন অভিনব পন্থা। শহরের বাহিরে থেকে আসা অপরিচিত লোকজনকে লক্ষ্য করে প্রথমেই তার নাম ঠিকানা জানতে চায়। কথা বলতে বলতে সামান্য আড়ালে নিয়ে যায়, এ সময় আশপাশ থেকে আরও ৩/৪ জন এসে অস্ত্রের মুখে ঘিরে ধরে মোবাইল, মানি ব্যাগ ও মালামাল হাতিয়ে নেয়।

প্রতিবাদ করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হঠাৎ শার্টের কলার ধরে বলে আমার বোনের সাথে তুই খারাপ ব্যবহার করেছিস কেন? অথবা তোর কাছে তো টাকা পাওনা ছিলাম। দিলি না কেন? এখন দিয়ে যাবি ইত্যাদি বলতে বলতে আড়ালে নিয়ে অস্ত্রের মুখে সব কিছু নিয়ে যায়।

দসাম্প্রতিক কুমিল্লার শাসনগাছায় চলছে আরেক অভিনব পন্থা। সিএনজি ড্রাইভারকে হাত করে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে যাত্রী সেজে উঠে শাসনগাছা থেকে একটু সামনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

ঐ এলাকার স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬-১০টার মধ্যে এই স্পটে ৩/৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের সময় ফটো সাংবাদিক রবিউল ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে।

রবিউল জানায়, ‘সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট যাই। তারপর ফেরার সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের সময় ক্যান্টনমেন্ট থেকে ১টি সিএনজিতে উঠি। এ সময় ৪ জন ছিনতাইকারী যাত্রী সেজে একই সিএনজিতে উঠে। কিন্তু সিএনজিটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছা মাত্রই ছিনতাইকারীরা ড্রাইভারকে এক ধরনের ইঙ্গিত দেয় তারপর ড্রাইভার আস্তে আস্তে সিএনজি চালাতে থাকে। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাদের সাথে থাকা বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র বের করে আমার সার্টের কলার ধরে। তখন আমি (রবিউল) সাহস করে চলমান সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ি এরপর আমাকে লক্ষ্য করে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে অল্পের জন্য কোপটি আমার উপর লাগে নি। আমি পেছনের দিকে দৌড়ে গিয়ে একটি দোকানে ঢুকে রক্ষা পাই।

সাম্প্রতিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট এর সামনে প্রতিদিন ছিনতাইয়ের ঘটনার ব্যাপারে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদকে অবহিত করলে তিনি জানান শাসনগাছা-আলেখারচর রোডে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করবেন ও ছিনতাইকারী চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করবেন।