কবি আবদুল খালেককে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সম্মাননা প্রদান

0
97
gift

giftকবিতায় ও বাংলাভাষা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের প্রথম প্রস্তাবক কবি মুহাম্মদ খালেককে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সম্মাননা প্রদান করেছে ‘এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন’।

গতকাল রোববার সকালে রূপগঞ্জ উপজেলার গুতিয়াব প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এবং ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এক আলোচনা সভায় এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের সাবেক বিচারপতি মো. মনসুরুল হক চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সভাপতি মুহম্মদ আবদুল খালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাড. আবদুর রউফ চৌধুরী, সাবেক ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন এবং উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ভূঁইয়া।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি-প্রধান বক্তাসহ সকলকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাভাষা রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করা হয় এবং এই জন্য আমাদের কয়েকজনকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়। আজ আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আজকের দিনে বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, সহিংসতামুক্ত দেশ গড়তে পারলে ওই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। আজকের এই মাঠে আমরা যা লক্ষ্য করছি তাতে মনে হয় এখানকার স্কুল উপযুক্ত মর্যাদায় চলছে না। এই স্কুলটি এলাকার স্বার্থে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে স্থানীয় এমপিকে অনুরোধ করব স্কুলটির প্রতি যথাযথ নজর দেওয়ার জন্য।

প্রধান বক্তা কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক বলেন, একুশে উপলক্ষ্যে ভাষা উৎসব সম্পর্কে কথা শুরু করলে প্রথমে শহীদ, রফিক, জব্বার, বরকত, সালাম, শফিউর এর নাম উল্লেখ করতে হয় এবং শ্রদ্ধা জানাতে হয়। আজও বাংলাদেশের অনেক স্থানে মাতৃভাষা বাংলাভাষা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন আমরা ১৯৮০ সাল থেকে করে আসছি। বিশ্ব বাঙালি সম্মেলন ও দক্ষিণ এশিয়া সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি হিসাবে এই দাবি সর্বপ্রথম আমিই উত্থাপন করি। সেই হিসাবে ইতিমধ্যে বহু সংগঠন আমাকে সম্মাননাও প্রদান করেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইতিমধ্যে জাতিসংঘে গিয়ে উক্ত দাবি ৩ বার উত্থাপন করেছেন। জাতিসংঘে ইংরেজী, ফরাসী, রুশ, চীনা, আরবি ও স্প্যানিশ ভাষা দাপ্তরিক রয়েছে। ৭ম ভাষা বাংলা আমরা দাবি করছি এবং আশা করি এ ভাষার স্বীকৃতি আমরা পাবো।

কবি খালেক আরো বলেন, রবীন্দ্র-নজরুল-মাইকেল-জীবনানন্দ-সুকান্ত যেভাবে সাহিত্য সৃষ্টি করে গেছেন বর্তমানকালে তাঁদের চাইতেও অনেক বিশ্বমানের করে সাহিত্য সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় আমরা বিশ্ব সাহিত্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকব না। উন্নত সাহিত্য সৃষ্টি হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করতে পারি। মুহম্মদ দুলাল মিয়ার কর্ম প্রচেষ্টায় আজকের এই অনুষ্ঠানটি হতে পেরেছে বলে তার প্রতি ধন্যবাদ জানাতে হয়। (বিজ্ঞপ্তি)

সাকি/