বাংলাদেশী অভিবাসীদের জোর করে ফেরত পাঠাচ্ছে সিঙ্গাপুর

0
43
migrants are enforced to leave singapore

migrants are enforced to leave singaporeজমি-জিরাত বিক্রি করে কিংবা বড় অংকের ঋণ নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমান অধিকাংশ প্রবাসী। একটু ভালো থাকার আশায় এবং পরিবারের সদস্যদের আরও একটু ভালো রাখার আশায় হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করতেও দ্বিধা-বোধ করেন না তারা। কিন্তু এই অমানুষিক পরিশ্রমের বিপরীতে সিঙ্গাপুরের মত দেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হুমকি-ধমকি প্রদানের মাধ্যমে জোর করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের। আর এই কাজে মালিকপক্ষকে সহায়তা করছে ‘প্রত্যাবাসন কোম্পানি’ নামে গজিয়ে ওঠা কতিপয় দালালি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি এপি বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৩ সালে বিশ্বব্যাপী মানব পাচার নিয়ে প্রকাশিত মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরজুড়ে অসংখ্যা প্রত্যাবাসন কোম্পানি রয়েছে যারা অভিবাসীদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করে থাকে। যদি কোনো অভিবাসী দেশে ফেরত আসতে রাজি না হয়, তবে তাকে মারধর করাসহ অপহরণ-গুম-খুনের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি শ্রমিকদের পাওনা টাকা না দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে শ্রমিকদের ফেরত পাঠায় মালিকপক্ষ।

এপি জানায়, এই ধরনের এক অত্যাচারের শিকার জাকির বেপারি নামের এক বাংলাদেশি। দেশে ফেরত যেতে বাধ্য করার জন্য মালিকপক্ষের যোগসাজশে তার গলায় ছুরি চেপে ধরে ইউটিআর সার্ভিস নামের এক প্রতিষ্ঠানের দালালেরা। কিন্তু এক মানবাধিকার কর্মীর সহায়তায় সে যাত্রায় বেঁচে যান তিনি ।

জাকির জানান, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঋণ শোধ করাতো দূরে থাক, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মালিক পক্ষের কাছে তার কোনো পাওনা নেই বলে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে একদল দালাল। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় স্বীকারোক্তি আদায়ে গলায় ছুরি চেপে ধরে তারা।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউটিআর সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আমরা জটিলতা নিরসনে মালিক এবং শ্রমিককে সমঝোতার আসতে সহায়তা করি।

অথচ এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জে রবি নামের একজন জানান, গত বছর এইভাবে ১২০০ শ্রমিককে দেশে ফেরত যেতে সহায়তা (বাধ্য) করেছেন তিনি। এই কাজের জন্য প্রতি শ্রমিকের বিপরীতে ১৯৯ থেকে ২৭৮ মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক(!) পান বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিবাসীদের জোর করে ফেরত পাঠানো সম্পর্কে এক বিবৃতিতে সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিবাসী শ্রমিকদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সরকারি নীতিমালা অবশ্যই মেনে চলতে হবে নিয়োগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। অন্যথায়, আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ছাড়াও জাকিরকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানায় সিঙ্গাপুর সরকারের এই বিভাগ।

উল্লেখ্য, এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ সিঙ্গাপুরে ১১ লাখ অভিবাসী রয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। এদের অধিকাংশই দেশটির আবাসন এবং জাহাজ শিল্পে কর্মরত। সিঙ্গাপুর থেকে ২০১০-২০১১ অর্থবছরে দেশে ২০ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।