সংসদের মতো উপজেলায়ও ব্যবসায়ীদের দাপট

0
88

Shujon_Pressআগামি ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন ৪৩২ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রদত্ত হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪২৮জন প্রার্থীর মধ্যে ২২১ জন বা ৫১ দশমিক ৬৪ শতাংশ ব্যবসায়ী।

সোমবার সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ডিআরইউ’র সাগর রুনি মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।

গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যেও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য ছিল। মোট প্রার্থীর ৫২ দশমিক ২২ শতাংশ ছিল ব্যবসায়ী। আর এ হিসাবও সুজনের।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন দিলীপ কুমার দাশ।  ৯৬টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪২৮জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে সুজন। এতে দেখা গেছে, এসব প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের পেশা ব্যবসা। ৪২৮ জনের মধ্যে ৫২ শতাংশে ২২১ জন ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে কৃষির সাথে জড়িত ২১ দশমিক শুন্য ৩ শতাংশ বা ৯০ জন। ২৮ জনের পেশার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেনি।

৫ লাখ টাকার কম সম্পদ আছে ৬৫ জনের। কোটিপতির সংখ্যা ৬১ জন। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ৯ জন। তবে অনেক প্রার্থীই সম্পদের মূল্য উল্লেখ না করায় আর্থিক মূল্যে সম্পদের প্রকৃত পরিমান নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য উল্লেখ না করার কারণেও সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।

৪২৮ জনের মধ্যে বছরে ২ লাখ বা তার চেয়ে কম আয় করেন ১৩২ জন। তবে অধিকাংশ প্রার্থীর বছরে আয় ৫ লাখ টাকার নীচে।

দায়-দেনা ও ঋণের  তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪২৮ জনের মধ্য ৬২ জন ঋণ গ্রহীতা। তবে এদের মধ্যে ৩৬৬ জনের কোন ঋণ নেই।

এছাড়া কোটি টাকার উপরে ঋণ নিয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার উপরে ঋণ রয়েছে ৩ জনের।

উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যন প্রার্থীদের মধ্যে আয়কর দেন ১০৩ জন। ৫ হাজার টাকার চেয়ে কম আয়কর দেন ৭১ জন।

সভায় সুজনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগনের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল না। তবে উপজেলা নির্বাচনে জনগনের অংশগ্রণ থাকবে।

স্থানীয় নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হবে তা দেখার বিষয়। এজন্য মধ্যবিত্তের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি তথ্য প্রচার না করে তাহলে তা আইনের বরখেলাপ হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হক, ঢাকা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক জাকির হোসেন।

এইচকেবি