অপহরণ থেকে মুক্ত হয়ে আসামিদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য, ফের অপহরণ

0
35
opohoron

opohoronঅপহরণের পর মুক্ত হয়ে সমঝোতার জন্য আসামিদের সাফাই গেয়ে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পরও পাড় পেলেন না মহেশপুর উপজেলার সাতপোতা গ্রামের এক কলেজছাত্রী। এত কিছুর পরও দায়েরকৃত অপহরণ মামলাটি শেষ না হওয়ায় পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আর এই অপরাধে মেয়েটিকে দ্বিতীয় দফা অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।

জানা যায়, অপহৃত মেয়েকে ফেরত পেতে বাধ্য হয়ে আসামিপক্ষের সাথে সমঝোতা করেছিলেন পিতা শফিকুল ইসলাম। এই সমঝোতা বৈঠকটি হয় তখনকার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল আজম খানের বাসায়।

সেখানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়েকে দিয়ে আদালতে আসামিদের পক্ষে সাক্ষ্যও দেওয়ান তিনি। কিন্তু মেয়েটির পিতা শফিকুল আদালতে চলমান মামলাটির কোনো সমাধান করতে পারছেন না। আর পূর্বের মামলা মিটিয়ে নেওয়ায় পুলিশও নতুন করে মামলা নিচ্ছেন না। ফলে মেয়েকে ফেরত না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মেয়ের বাবা শফিকুল ইসলাম অর্থসূচককে জানান, তার ১৬ বছর বয়সী এক মেয়ে ভৈরবা শহিদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কলেজে যাওয়ার পথে পাশ্ববর্তী গাড়াপোতা গ্রামের দাউদ হোসেন মোল্লার পুত্র শাহিনুর রহমান কুপ্রস্তাব দেয়। তার কন্যা এর প্রতিবাদ করলে বখাটে যুবক দেখে নেবে বলে হুমকী দেয়। এক পর্যায়ে গত বছরের ৩১ মে কলেজ যাবার পথে রাস্তা থেকে তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, এরপর তিনি মহেশপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সে সময় পুলিশ তৎপর হলে আসামিরা মেয়েটিকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর স্থানীয় সাংসদ শফিকুল আজম খান উভয় পক্ষকে নিয়ে তার বাসায় একটি বৈঠক করেন। সেখানে মেয়েটিকে ফেরত দেন এবং মামলাটি মিটিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। এরপর তিনি মেয়েকে নিয়ে আদালতে আসামিদের পক্ষে বয়ান দিয়েছেন। কিন্তু ১৮ নভেম্বর মহেশপুর থানা পুলিশ ওই মামলায় আসামিদের প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়ায় আসামিরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েকে পুনরায় ক্ষতি করার হুমকি দেয়।

শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৬ জানুয়ারি আসামিরা ১৮/২০ জন সশস্ত্র অবস্থায় তার বাড়িতে হানা দিয়ে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে তারা বোমা বিষ্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার পর ২৭ জানুয়ারি তিনি থানায় আরেকটি এজাহার দিয়েছেন। কিন্তু গত ১৫ দিনেও পুলিশ সেই মামলাটি নথিভুক্ত করেনি। তিনি জানান, পূর্বের মামলা মিটিয়ে নেওয়ায় পুলিশ তার ওপর ক্ষিপ্ত। যে কারণে এই মামলা নথিভুক্ত করছেন না। আর আসামিরা পূর্বের মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত মেয়েকে ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জজ কোর্টের আইনজীবী আতিয়ার রহমান জানান, সাধারণত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর সংশোধনী ২০০৩ এর ৭/৩০ ধারায় পুলিশ চার্জশিট দিলে সেই মামলার বিচার ছাড়া কোনো মীমাংসার সুযোগ থাকে না। এখানে বাদীর কিছুই করার নেই। সাক্ষ্য দেওয়ার পর মামলার সমাধান হবে।

এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন জানান, পূর্বের মামলা তদন্ত করে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় চার্জশিট হয়েছে। আর বর্তমানে মেয়েটির বিষয়ে স্থানীয় একটা সমাধানের চেষ্টা চলছে। যে কারণে মামলাটি নথিভুক্ত হয়নি। তবে সমাধান না হলে মামলা নিয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কেএফ