Asset Revaluation কী ?

0
398
asset revaluation, সম্পদ পুনর্শূল্যায়ন
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একটি ডিপো

asset revaluation, সম্পদ পুনর্শূল্যায়নAsset Revaluation হচ্ছে একটি কোম্পানির সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন। বিদ্যমান সম্পদের বাজারমূল্য হালনাগাদ করা। ধরা যাক, একটি কোম্পানির ২০ বিঘা জমি আছে। পাঁচ বছর আগে ২৫ লাখ টাকা বিঘা দরে এ জমি কেনা হয়েছিল। এ হিসেবে কোম্পানির মোট জমির মূল্য ৫ কোটি টাকা। কিন্তু গত পাঁচ বছরে ওই এলাকায় সমমানের জমির দাম বেড়ে বিঘা প্রতি ৪০ লাখ টাকা হয়েছে। এ হিসেবে বর্তমানে বাস্তবে কোম্পানিটি ৮ কোটি টাকার জমির মালিক। পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমই কেবল কোম্পানির সম্পদের প্রকৃত মূল্য বোঝা সম্ভব।

বিধি অনুসারে একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জমি, বিল্ডিং ও মেশিনারিজের মূল্য সমন্বয় করতে হয়। অ্যাসেট রিভ্যালুয়েশন বা পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে এটি করা হয়ে থাকে। তবে কত বছর পর পর এটি সম্পদ  পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে কোম্পানি আইনে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। বরং কোম্পানির সংঘবিধিতে উল্লেখ করা  হয় কত সময় পর কোম্পানিটি তার সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন করবে। কোম্পানিকে এ সময়সীমা মানতে হয়।

কোম্পানি আইনে সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা না থাকার সুযোগ নিয়ে ২০০৭ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সময়ে অনেক অসাধু উদ্যোক্তা এটিকে শেয়ার কারসাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই সম্পদের একাধিকবার পুনর্মূল্যায়ন করে তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেখিয়েছেন। সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের খবরে বেড়েছে শেয়ারের দাম।

শেয়ারের মূল্য কারসাজিতে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের অপব্যবহার বন্ধ করতে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি নির্দেশনা জারি করে, যা ওই বছরের ১৮ আগস্ট কার্যকর হয়। টু সিসি (2 cc) এটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি প্রাথমিক গণ প্রস্তাব (আইপিও) অথবা সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইচ্ছুক কোম্পানির জন্যও প্রযোজ্য হবে।

বিএসইসির নির্দশনা অনুসারে, একই শ্রেণীর সম্পদ দু’বার পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিন বছরের সময়ের ব্যবধান থাকতে হবে। অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে একই সম্পদ আবার পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে না। এছাড়া কোনো সম্পদ কেনার দুই বছরের মধ্যেও পুনর্মূল্যায়ন চলবে না।

বিএসইসি সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের তিনটি ইস্যুতে নিদের্শনা দিয়েছে। এগুলো হলো-সাধারণ শর্ত, তথ্য প্রকাশের শর্ত ও ভ্যালুয়ারের নৈতিক মূলনীতি।

সাধারণ শর্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সম্পদ মূল্যায়নের কারণ ও কোন শ্রেণীর সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করা হবে তা সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হতে হেব। এ সিদ্ধান্ত অনুসারে ভ্যালুয়ারের নিয়োগ হবে। ভ্যালুয়ার পরিচালনা পর্ষদের কাছে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সম্পদ মূল্যায়নে ভ্যালুয়ারকে ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন স্ট্যান্ডার্ড (আইভিএস) অনুসরণ করতে হবে। ভ্যালুয়ার তার কাজের ক্ষেত্রে পাঁচটি নৈতিক নীতিমালা— পেশাদারিত্ব, সততা, গোপনীয়তা, কর্মদক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখবেন।

বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএফআরএস) অনুসারে আর্থিক প্রতিবেদনে সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর সম্পদ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের সব নথি অবশ্যই নিরীক্ষককে সরবরাহ করতে হবে। নিরীক্ষক সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সম্পদ মূল্যায়ন ও আর্থিক প্রতিদেনে হিসাবভুক্তি বিএএস ও বিএফআরএস পরিপালন করে করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে মন্তব্য দেবেন। এছাড়া আয়কর ও অন্যান্য দায় মূল্যায়নের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কিনা সে বিষয় পরীক্ষা এবং মন্তব্য করার দায়িত্বও নিরীক্ষকের।

কোনো লিজহোল্ড, ল্যান্ড ও বিল্ডিং পূর্ণাঙ্গ মেয়াদ ৯৯ বছরের কম ও ব্যবহারের পর ওই লিজের অবশিষ্ট মেয়াদ যদি ১০ বছরের কম থাকে তবে তা পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে না। টি-শেড ও বিল্ডিংয়ের এবং নতুন ও পুরনো কেনা প্লান্ট-মেশিনারিজের আয়ুষ্কাল ৫০ শতাংশ কম থাকলে পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে না। কোম্পানি গাড়ি, আসবাবপত্র, ফিটিংস, অফিস ইকুইপমেন্ট, লুজ টুলস ও অস্পর্শনীয় (ইনট্রানজিবল) সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে না।

পুনর্মূল্যায়নে পাওয়া সম্পদের বাড়তি মূল্য রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ থেকে লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ রহিত করা হয় বিএসইসির ওই নির্দেশনায়। অর্থাৎ রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

ভ্যালুয়ার প্রতিষ্ঠান অংশীদারি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হলে চলবে। তবে সেটিকে অবশ্যই  জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস পরিদপ্তরে নিবন্ধিত হতে হবে। ভ্যালুয়ার কোম্পানি হতে স্বাধীন হতে হবে। কোম্পানির পরিচালক, নিরীক্ষক বা অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ ভ্যালুয়ার হতে পারবেন না।

বিভিন্ন শ্রেণীর সম্পদ-দায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করা হয়। তা কি ধরনের ধারণাভিত্তিতে করা হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে। মূল্যয়ন প্রতিবেদনের প্রধান নির্বাহীর স্বাক্ষরসহ মন্তব্য দেবে ভ্যালুয়ার। এক্ষেত্রে আইভিএস অনুসারে মূল্যায়ন, সম্পদের মালিকানা, ব্যবহার ও দখল কোম্পানির অধীনে রয়েছে সে বিষয়ে উল্লেখ করবেন। এছাড়া কোন আইন ও মান অনুসরণ করা হয়েছে, তাও ব্যাখ্যা দিতে হবে। ভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি রেফারেন্স আকারে উল্লেখ করতে হবে। সম্পদ কেনার তারিখ, ব্যয়, বুক ভ্যালু, টাকার অঙ্ক ও যে মুদ্রায় হিসাব করা হয়েছে তাসহ মূল্যায়নের ভিত্তি উল্লেখ থাকতে হবে।

সূত্র: পুঁজিবাজার শব্দকোষ