সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ১৫০০ কোটি টাকার তহবিল আশা করছে বাংলাদেশ

0
86
rab
র‌্যাব। ফাইল ছবি

rabসম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদার বাংলাদেশে ‘ইসলাম বিরোধীদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।’ বাংলাদেশ : আ ম্যাসাকার বিহাইন্ড দ্য ওয়াল অফ সাইলেন্স’ অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ: নীরবতার দেয়ালের আড়ালে একটি গণহত্যা’ শিরোনামের ভিডিও বার্তাটিতে দাবী করা হয় যে, মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে, কিন্তু মুসলিমরা এবিষয়ে সম্পূর্ণ অচেতন।

এদিকে ওই ভিডিও বার্তাটি প্রকাশিত হওয়া পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের একটি অসর্মথিত সূত্র জানিয়েছে, সরকার দেশের অভ্যন্তরে কোনো ধরণের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, উসকানি মেনে নেওয়া হবে না। দেশর নিরাপত্তা বাহিনী বিষয়টি কঠোর ভাবে দমন করবে পারবে।

সূত্রটি জানায়, কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয় সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক মহলও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। আর এ জন্য বাংলাদেশের চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ডলারের বা ৩৮৮ কোটি টাকার একটি আন্তর্জাতিক তহবিলের আশা করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৯ জাতির এক সংগঠন সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ভে কাজ করার জন্য ‘ গ্লোবাল ফান্ড ফর কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এন্ড রিসাইলেন্স’ নামের একটি তহবিল গঠন করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের সূত্রটি জানিয়েছে, তারা আশা করছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে এই প্রকল্পের অধিনে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ কর্মশালাও করা হবে। সেখানে সন্ত্রাসীদের বিষয়ে কিভাবে সাহাযে তথ্য পাওয়া যাবে এবং সংগ্রহ করা যায় তা শেখানো হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামি দশ বছরের মধ্যে এই তহবিলের আকার ২০ কোটি ডলার বা দেড় হাজার কোটি টাকার হবে।

সূত্রটি জানায়, তহবিলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে চার সদ্যের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটন যাচ্ছে। আগামি ২০ তারিখে দাতা সংস্থাটির একটি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারা তহবিলের বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

প্রতিনিধি দলটি সেখানে বাংলাদেশের জন্য তহবিলটি পাওয়ার যৌক্তিকতা, এটির ব্যায় পরিকলাপনা, এবং কিভাবে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় তা জানাবে। সেই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের একটি চিত্রও তুলে ধরবেন।

বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশের মতোই এই তহবিল বাংলাদেশে আসবে কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) বা সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে্ তবে এই তহবিল পাওয়ার জন্য এনজিও বা সামাজিক সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ে কাজ থাকতে হবে।

‘গ্লোবাল ফান্ড ফর কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এন্ড রিসাইলেন্স’ নামের প্রকল্পটিতে মূলত যুবসমাজকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। দাতা সংস্থাটি মনে করে, যুব সমাজের মধ্য দিয়েই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পরতে পারে।

এদিকে দেশের অনেকে  আল কাদয়ার কথিত এই হুমকির সম্বলিত ভিডিও বার্তাটির বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইসলামি চিন্তাবিদরা এধরনের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।  তবে আল কাদয়ার কথিত এই হুমকির পরে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন এটাকে হালকা করে নেওয়ার কিছু নেই। তারা এখনই সতর্ক হওয়ার জন্য সরকাররের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ব়্যাবের উপ-মহাপরিচালক কর্ণেল জিয়াউল আহসান জানান, ভিডিও বার্তাটি তদন্তের জন্য তারা সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান এটি আসলে কোথা থেকে প্রকাশ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে র‌্যাব। আল কায়দার এই আহ্বানের পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি মনে করেন’ বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি বা তাদের সঙ্গে যুক্ত কোনো জঙ্গি সংগঠনের উপস্থিতির নেই।

তবে বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে র‌্যাব তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।