পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে

0
31

Oven_Knit_Towelদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমলেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এর  নেতিবাচক প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।  চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে (জুলাই-জানুয়ারি) সময়ে এই খাতে রপ্তানি আয় আরও কমেছে। আলোচ্য সময়ে নিট ও ওভেন-পোশাক শিল্পের এ দুই উপ-খাতেই আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কম ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে নিট ও ওভেন-পোশাক খাতে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বরে রপ্তানি আয়ে ১৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিলো। এর আগের মাসে তথা নভেম্বরে এ দুই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও ২১ শতাংশ।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, দেশে  রাজনৈতিক অস্থিরতা কমলেও নেবিবাচক প্রভাব এখনও কমেনি। রাজনৈতিক সহিংসতার প্রভাবে রপ্তানি আদেশ কমে গেছে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা। তাছাড়া, পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারায় আদেশ পাওয়া পণ্য কারখানায় আটকে থাকা, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিদেশি ক্রেতারা ভারতে রপ্তানি আদেশ স্থানান্তর করা, পাকিস্তানের জিএসপি সুবিধা পাওয়াকে দায়ি করছেন তারা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, জুলাই থেকে জানুয়ারি নীট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬৯৯ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এ সময় ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭১৭ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

যা গত অর্থবছরে একই সময়ে ছিল নীট পোশাকে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ও ওভেন পোশাকে ৬১১ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার।

এর আগে রপ্তানি কমার কারণ হিসেবে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ অর্থসূচককে জানিয়েছিলেন, চলমান অস্থরিতার কারণে বিদেশি ক্রেতারা নিরাপত্তা সংকটে রপ্তানি আদেশ কমিয়ে দিয়েছে।

হরতাল-অবরোধে ক্ষতিও পণ্য জাহাজীকরণে বিলম্ব এই রপ্তানিতে বেশি প্রভাব ফেলেছে। তাছাড়া, পাকিস্তানের জিএসপি সুবিধা পাওয়া ও ভারতে টি-শার্টের ওর্ডার বেড়ে যাওয়াকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

২০১২-১৩ অর্থবছরে নিটওয়ারে রপ্তানি হয়েছিলো ১০৪৭ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। আর ওভেনখাতে রপ্তানি হয়েছিলো ১১০৩ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

চলতি অর্ত বছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নিটখাতে ১১৫৭ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। আর ওভেনখাতে ১২৫৭ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।