বিদেশিদের লোলুপ দৃষ্টিতেই হুমকির মুখে দেশের অর্থনীতি: শিল্পমন্ত্রী

0
77
DCCI1

DCCI1দেশীয় সম্পদের ওপর বিদেশিদের লোলুপ দৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনেও রয়েছে সম্পদের ওপর প্রভাবশালীদের লোলুপ দৃষ্টি। তবে বিদেশিদের ব্যাপারে সরকার সতর্ক থেকেই কাজ করছে বলে জানান তিনি।

রোববার দুপুরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ‘রপ্তানি বৃদ্ধিতে অ্যাক্রেডিটেশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ ফরহাদ উদ্দীন, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, বিএবি মহাপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার এম. লিয়াকত আলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে অনেক কিছু (সম্পদ) আছে তা আমরা জানি না। বিদেশিদের কাছে সেটা ধরা পড়েছে। আর এই কারণে দেশের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে তেমনি দেশ নানা বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।

তিনি মধ্য প্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা শুধু তাদের সম্পদের কারণ বলে মনে করেন। আর মধ্য প্রাচ্যের মতোই এদেশে বিদেশিদের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে বলে জানান তিনি। তাই সরকার সেভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রপ্তানি বাণিজ্য ক্রমেই বাড়ছে। ২০০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানিবাণিজ্য আজ ২৭ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। তাই রপ্তানির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তিনি দেশে অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরির সংখ্যা বাড়াতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্বের ১৮৮ দেশে ৭০৫টি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ৮০টি দেশে বাংরাদেশের তৈরি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে বলে জানান তিনি। আর ফার্নিচার, প্লাস্টিক, ডায়মন্ড, আগর উড, রাবার, পাঁপড়, আতরসহ নতুন ১৫টি পণ্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি তালিকায় ওঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

বিদেশি ক্রেতা-ভোক্তারা গুণগতমানের বিষয়ে কখনোই আপোস করে না। তাই আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানের পণ্য উৎপাদনে সক্ষম না হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী চিনি ব্যবসায়ীদের সরকারের সঙ্গে পাল্লা না দেওয়ার জন্য বলেন। সরকারি দামের চেয়ে কম দামে চিনি ছাড়লে সরকার বিদেশ থেকে চিনি এনে রিফাইন করে আমদানি চিনিতে বেশি কর আরোপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আর সুগার বিটের জন্য ঠাকুরগাঁয়ের এক চিনি কলকে নির্বাচন করেছে। সেখানের অবস্থান বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশিও পণ্যের সেবা ও মান বৃদ্ধিতে অ্যাক্রেডিটেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। অ্যাক্রেডিটেশনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন পণ্য রপ্তানিতে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।