সম্পদ বাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেন সাংসদ, প্রমাণ হলে পদ ছাড়বেন

0
109

badiসংসদ সদস্য থাকাকালে ব্যক্তিগত সম্পদ ৩৫১ গুণ বাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেন সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। তিনি আজ দুদক কার্যালয়ে তারবিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, চোরাচালানসহ আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ উপার্জনের অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক মহসেন আলী  বদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের পরে বদি বলেন, আমি এমন কোনো কাজের সাথে জড়িত নই। সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা মিথ্যা।

তিনি বলেন , নির্বচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার চেয়ে যদি একটি টাকাও অভৈধ ভাবে অর্জন করেছি বলে প্রমাণ করতে পারেন তবে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবো।

প্রসঙ্গত নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হলফনামায় দেখা যায়, পাঁচ বছের বদির সম্পদ বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। ইসির কাছে দেওয়া বদির হলফনামার তথ্য অনুসারে, জীবনে প্রথম সাংসদ হওয়ার পর পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে ৩৫১ গুণ। আর নিট সম্পদ বেড়েছে ১৯ গুণেরও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, হলফনামায় বদির কেবল আয়কর বিবরণীতে প্রদর্শিত অর্থ ও সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি গত পাঁচ বছরে আয় করেছেন ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও টেকনাফে জ্বালানি তেলের ব্যবসা করে এ টাকা অর্জন করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। হলফনামা অনুসারে এমপি বদির বার্ষিক আয় সাত কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর বার্ষিক ব্যয় দুই কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা।

এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় বলেছেন, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। আর ব্যয় ছিল দুই লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা। তখন (২০০৮) বিভিন্ন ব্যাংকে আবদুর রহমান বদির মোট জমা ও সঞ্চয়ী আমানত ছিল ৯১ হাজার ৯৮ টাকা। পাঁচ বছরের মাথায় এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি পাঁচ লাখ ১০ হাজার ২৩৭ টাকা। তার হাতে ২০০৮ সালের নভেম্বরে নগদ টাকা ছিল দুই লাখ সাত হাজার ৪৮ টাকা। আর এখন ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া এখন স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৫ টাকা।

আয়কর বিবরণীতে তিনি দেখিয়েছেন সাত কোটি ৩৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৮ টাকা। আর নিট সম্পদের পরিমাণে বলা হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৩ টাকা। পাঁচ বছর আগে ২০০৮ সালের আয়কর বিবরণী অনুসারে, তখন তার বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৮৮০ টাকা। আর নিট সম্পদ ছিল ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৩ টাকার।

প্রসঙ্গত, ১২ জানুয়ারি কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে বদিসহ সাত জনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। আর সেলক্ষ্যে ২২ জানুয়ারি আব্দুর রহমান বদির সম্পদের অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মোহসেন আলীসহ সাত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় কমিশন।