আজ ওসমানীর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী

0
31

ওসমানীআজ মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক বীর সেনানী বঙ্গবীর এমএজি ওসমানী’র ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য ওসমানী ইংরেজিতে একটি ভাষণ লিখেছিলেন। ভাষণের অনুবাদ করেত গিয়ে তার পদবী কমান্ডার ইন চীফের বাংলা মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি করা হয়েছে দেখে তিনি খেপে যান। তৎকালীন স্বাধীন বাংলা বেতারের ভারপ্রাপ্ত সদস্য আব্দুল মান্নান নির্দেশ দিলেন তার পদবীতে প্রধান সেনাপতি লিখতে। প্রসঙ্গত, মুজিব নগরে বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতা ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কের পদ দেওয়া হয়। সে সময় ওসমানী ছিলেন মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।

এমএজি ওসমানী বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক কালজয়ী নাম। তার সৃদৃঢ় নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস মরণপণ যুদ্ধ করে আমরা পেয়েছি আমাদের প্রিয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

এই মহান নেতার জন্ম ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দয়ামীরের কৃতি সন্তান খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ও জোবেদা খাতুন তার গর্বিত পিতা-মাতা। মো. আতাউল গণি ওসমানী ১৯৩৯ সালে বৃটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষা জীবনে তুখোড় ছাত্র হিসেবে সর্বমহলে তার বেশ সুনাম ছিল।

১৯৪২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নতুন নজির সৃষ্টি করেন। ১৯৬৭ সালে ওসমানী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্ণেল পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জেনারেল ওসমানী সেনাবাহিনীর সাবেক ও তৎকালীন সদস্যদের সংগঠিত করেন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হওয়ার পর তাকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়।

দীর্ঘ ৯ মাস অসীম সাহসিকতার সাথে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের মাধ্যমে এমএজি ওসমানী পরিণত হন স্বাধীন সার্বভৌম সমর নায়কে। স্বাধীনতার পর তাকে জেনারেল পদে ভূষিত করা হয়।

৬৬ বছর বয়সে জেনারেল ওসমানী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ওসমানীর জন্মস্থান সিলেটে বেশ কিছু সংগঠন গুরুত্বের সাথে তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করলেও জাতীয়ভাবে তার মৃত্যু ও জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ নেই আজও।

বঙ্গবীর জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের জন্য বার বার বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। জেনারেল এমএজি ওসমানীর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ইত্যাদি।

তার অসামান্য অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের ক্ষণজন্মা এই বীর সেনানীর মৃত্যুবার্ষীকিতে পুরো জাতি শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করছে।