আগামি বছর জিডিপিতে রপ্তানি অবদান হবে ২২ শতাংশ

0
122

DCCIআগামি ২০১৫ সাল মধ্যে জিডিপিতে রপ্তানি অবদান ২২ শতাংশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েন ডিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খান। আর রপ্তানিখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন তিনি।

রোববার দুপুরে ঢাকা চেম্বার অ কমার্স অ্যান্ডইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে রপ্তানি বৃদ্ধিতে অ্যাক্রেডিটেশনের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।

বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, শিল্প অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মাদ ফরহাদ উদ্দীন, ডিসিসিআইএর সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম, বিএবি মহাপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার এম.লিয়াকত আলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।

মোহাম্মদ শাহজাহান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপরে রপ্তানি করছে। আর ২০১৫ সালে জিডিপিতে এই রপ্তানি ২২ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাম করেন তিনি। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে রপ্তানির অবদান প্রায় ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ রয়েছে।

২০২১ সলের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করা খুবই জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে পণ্য ও সেবার আন্তর্জাতিক এ্যাক্রেডিটেশন সনদ গ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানি সম্প্রসারণ ও পণ্যের গুণগতমান বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রায় ৬০ ভাগ বিশ্ব বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত। আর এর সম্প্রারণ ক্রমাগত বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

এই প্রেক্ষিতে প্রতিটি দেশই পণ্য, সেবা, নমুনা, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা জনশক্তির উপর কিছু কিছু ঐচ্ছিক এবং বাধ্যতামূলক টেকনিক্যাল রেগুলেশন, স্ট্যান্ডার্ডস, টেস্টিং, পরিদর্শন এবং সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ আরোপ করছে বলে জানান তিনি।

সমগ্র বিশ্বে এখন অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো “কোয়ালিটি” আর এর নিশ্চয়তা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হচ্ছে এ্যাক্রেডিটেশন। এ্যাক্রেডিটেশন সামগ্রিক কর্মকান্ডের অনুসন্ধান যোগ্যতা নিশ্চিত করা, পদ্ধতি ও যন্ত্র সম্পর্কে উন্নত জ্ঞান প্রদান করা, ম্যানেজমেন্টকে আরও সুশৃংখল এবং সক্ষম করা, পেশাদারীত্ব ও দক্ষতার উন্নয়ন সাধন, উন্নত কর্মপদ্ধতি প্রদান, দায়িত্ব বৃদ্ধি এবং ভুলের মাত্রা অনেকাংশে হ্রাস করতে সাহায্য করে।

তাছাড়া, এর মাধ্যমে তথ্য ও উপাত্তের সহজলভ্যতা, প্রতিকার ও প্রতিরোধ মূলক কর্মকান্ডের উন্নতির মাধ্যমে “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার’’ উন্নয়ন সাধন এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের গতিশীলতা ও ব্যবসায়িক প্রসার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

“এ্যাক্রেডিটেশন” বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক টেন্ডারে এটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ্যাক্রেডিটেশন, ল্যাবরেটরী ব্যবহারকারীর পণ্য ও সেবার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করার নিশ্চয়তা প্রদান করে। যার ফলে পণ্য ও সেবার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, আন্তর্জাতিক মানের পণ্য ও সেবার সঙ্গে তুলনা, যেকোন ধরনের আপত্তির বিরুদ্ধে আইনগত ভিত্তি প্রদান, যোগ্য ও দক্ষ জনবল সৃষ্টি, বহুলাংশে বর্ধিত গ্রাহকসেবা ও গ্রাহক তৃপ্তি, যথাযথ ও স্বীকৃত পদ্ধতির ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য যথাযথ মানের প্রতিষ্ঠা, পণ্য ও সেবার যথার্থতা নিরূপণের ভিত্তি প্রদান করা সম্ভব হয় ।