আকামা পরিবর্তনের সুযোগ: আনন্দে ভাসছে সৌদি প্রবাসীরা

0
115
bangladeshi immigrant at saudi arabia are happy for ekama transfer

bangladeshi immigrant at saudi arabia are happy for ekama transferদীর্ঘ ছয় বছর পর আকামা তথা মালিক ও পেশা পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ফলে কম টাকা বেতনে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত মালিকের চাকরি করার অভিশাপ থেকে মুক্তির সুযোগ পেয়ে আনন্দে ভাসছে সৌদি প্রবাসীরা।
সম্প্রতি সৌদি প্রশাসন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাসকে আগামি ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশিদের জন্য আকামা পরিবর্তন সুবিধা আবার চালু করার কথা জানানোর পর থেকেই আনন্দে ভাসছে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও তাদের স্বজনরা।

সৌদি প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে ২৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে অধিকাংশই শ্রমিক। আর এসব শ্রমিকের অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এখানকার কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সৌদিতে এসেছেন। চুক্তির সময় বেতনাদি বেশি দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অনেক কম বেতন দেয় এসব কোম্পানি ও ব্যক্তি মালিকরা। আর আকামা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় শ্রমিকদের বাধ্য হয়েই কম বেতনে কাজ করতে হতো এসব কোম্পানিতে। তবে অবৈধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযান না থাকলে অন্য কোম্পানিতে ওভার টাইমে কাজ করে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে পুলিশের অভিযানের কারণে তাও বন্ধ গেছে। ফলে অনেক শ্রমিকই বেতনের অর্থ থেকে দেশে পরিবারের জন্য কিছু পাঠানোর সুযোগ পেতেন না। আর আকামা পরিবর্তনের সুযোগ করে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে কম বেতনে চাকরি করার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেলেন তারা।

এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি বাদশাহর বিশেষ ক্ষমার মেয়াদে আকামা ট্রান্সফারের সুযোগ পেলেও ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রান্সফারের সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। যদিও বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের প্রবাসীদের জন্য আকামা ট্রান্সফার উন্মুক্ত ছিল।

এদিকে আকামা ট্রান্সফারে স্থায়ী সুযোগের খবর শুনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাঁধভাঙা আনন্দ। এখন যেকোনো সময় প্রবাসীরা তাদের কোম্পানি পরিবর্তন করতে পারবেন। বিষয়টিকে সৌদি প্রবাসীরা বাংলাদেশিদের প্রতি সৌদি প্রশাসনের ইতিবাচক মনোভাব হিসেবে দেখছেন সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

সৌদি প্রবাসী জয়নাল আবেদীন জানান, আমি গত ২ বছর আগে একটি বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে এদেশের বাগানে কাজ করতে আসি। এখানে আসতে আমার প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়।তবে এখানে এসে কাজে যোগদান করার পর দেখি আমার বেতন মাত্র ১ হাজার রিয়াল যা বাংলাদেশি টাকায় ২০ হাজার টাকার চেয়েও কম। এখানে থাকা এবং খাওয়ার খরচ দেওয়ার পর বাড়িতে টাকা পাঠানো আমার জন্য প্রায়  অসম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশিদের জন্য আকামা বা মালিক পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় আমাকে বাধ্য হয়ে এখানেই কাজ করতে হতো।তবে এখন আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ায় আমরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে পারছি।দুই বছর পর হলেও মালিক পরিবর্তনের সুযোগ পেয়ে পরাধীনতা থেকে মুক্ত হলাম।

জেদ্দা প্রবাসী সাদ্দাম হোসেন জানান,আমি এক বছর আগে একটি কোম্পানিতে কাজ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসি। আমার এ কোম্পানি শ্রমিকদের খুবই কম বেতন দেন যাতে এখানে থাকাই মুশকিল। এতদিন আমি অন্য কোম্পানিতে অতিরিক্ত সময়ের কাজ করতাম। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের জন্য টাকা পাঠানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সৌদি সরকারের দেওয়া আকামা পরিবর্তনের নতুন সুযোগ মালিকদের অবিচার থেকে আমাদের রক্ষা করবে।