টানা অবরোধে বিপাকে রাজশাহীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

টানা অবরোধে বিপাকে রাজশাহীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

rajshai_footpathবিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ১৩১ ঘন্টার অবরোধে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রাজশাহী মহানগরীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অবরোধে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় কেনাবেচা কমে যাওয়ায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাদের আয় রোজগারের পথ। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তারা চায় দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, যাতে করে শান্তি রোজগার করে তারা দুই বেলার রুটি রোজি যোগার করতে পারে।

জানা যায়, মহানগরীর সাহেববাজার, রেল স্টেশন, শালবাগন, কোর্ট এলাকা, বিনোদপুর, তালাইমারীসহ মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই শতাধিক ফলের দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা আপেল, আঙুর, কমলা, বেদেনা, কলাসহ বিভিন্ন ফল আমদানি করে ছোট ছোট দোকান, ভ্যান ও টেবিলে সাজিয়ে বিক্রি করে। বিক্রি ভালো হওয়ায় লাভবান হয় তারা। কিন্তু টানা এক সপ্তাহের অবরোধের কারণে ক্রেতা উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এসব ফল বিক্রি না হওয়ায় ফলে পচন ধরে নষ্ট হয়ে যায়। এতে তাদের ব্যবসায় ব্যাপক আর্থিক লোকসান দেখা দিয়েছে।

মহনগরীর ভ্রম্যমান ফল ব্যবসায়ী কালাম জানান, নগরীতে ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে ফল বিক্রি করে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন ফল বিক্রি করে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা লাভ হয়। কিন্তু টানা অবরোধের কারণে ক্রেতা না থাকায় কেনাবেচা নেই। অবরোধে বিক্রি না থাকায় ফল নষ্ট হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা লোকসান হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলবে বলে তিনি জানান।

সাহেববাজারের জিরোপয়েন্টের পাশে ফুটপাতে ভ্যানে করে শীতের গরম কাপড় বিক্রি করেন ইউনুস আলী। তিনি জানান, টানা অবরোধের কারণে গ্রাহকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বিক্রি কমে গেছে। শীতের এসময় দোকানে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। কিন্তু অবরোধে সহিংশতার আশঙ্কায় লোকজন কম বের হচ্ছে। তাই বিক্রিও কমে গেছে।

নগরীর রেল স্টেশন মোড়ের চায়ের দোকানী নুরুজ্জামান জানান, পাশেই রেল স্টেশন থাকায় এখানে লোকজনের প্রচুর সমাগম থাকে। ফলে কেনাবেচা মোটামুটি ভালো হয়। কিন্তু অবরোধে রেল পথে বেশি নাশকতা হওয়ায় লোকজন কম বের হচ্ছে। তাই দোকান খোলা রাখলেও বিক্রি নেই। এই দোকানটি হচ্ছে তার আয়ের একমাত্র মাধ্যম। এর আয় দিয়ে সংসার চালাতে হয়। টানা সপ্তাব্যাপী অবরোধে তিনি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

নিউ মার্কেটের প্রধান ফটকের সামনে কথা হয় রিকশাচালক আলিমুদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অবরোধে আয় রোজগারের অবস্থা খুবই খারাপ। দুপুর নাগাদ মাত্র ৫০ টাকা আয় হয়েছে। রোজগারের যে অবস্থা সারা দিনের রোজগার দিয়ে রিকশার মালিকের টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা দিয়ে চাল ডাল কেনার পয়সা হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। পাশেই দাঁড়ানো আরেক রিকশাচালক মানিক মিয়া বলেন, সকাল আটটায় রিকশা নিয়ে বেরিয়েছেন তিনি। রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যা কম। দুপুর নাগাদ মাত্র ১০০ টাকা আয় হয়েছে। এদিয়ে কেবল মালিকের টাকা জমা দেয়া ও নিজের খরচ চলবে। সংসারের পরিবার পরিজন আজ খেতে দিতে পারব কিনা একমাত্র খোদাই জানে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ