ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়: খলীকুজ্জামান

0
158

manibik_bankingক্ষুদ্র্রঋণের বিপক্ষেই বললেন পল্লী কমৃসংস্থান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ।  তিনি বলেছেন, ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে এদেশের কখনো কোনো উন্নয়ন হয় নি আর ভবিষ্যতেও হবার সম্ভাবনা নেই। আমাদের ‘ক্ষুদ্র’ চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যার যতটুকু প্রয়োজন তাকে ততটুকুই ঋণ দিতে হবে। আর তাহলেই দেশের উন্নয়ন হবে। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানও হয়ে উঠবে মানবিক।

শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের লেখা ‘মানবিক ব্যাংকিং’- এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খলীকুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে বা অন্যান্য দেশে গতানুগতিক কাজ করার মানুষের অভাব নেই। গতানুগতিক কাজের ফল গতানুগতিকই হয়। তাই গতানুগতিকতা থেকে বের হয়ে সময় উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তার মতে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি সুবিধা গুটিকতক লোকে উপকার হয়। এসব উন্নয়নের বিষয়ে তিনি সুষম বন্টনের তাগিদ দেন।

টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রে রাখতে হবে। দারিদ্রতা আমাদের অনেক কমেছে। কিন্তু দরিদ্রতার নানা দিক রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আর্থিক সেবায় মানুষকে এগিয়ে নিতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, আমি বহুবার গ্রামে গিয়েছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি তারা কেন ঋণ পায় না। তাদের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জেনেছি।  আমাদের দেশের ব্যাংকাররা সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করেছি। যার অর্ধেকটার বেশি দিয়েছে বেসরকারি বাংক।

প্রতিটি ব্যাংক এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিবেদন দেয় কতটা সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করছে। প্রতি বছর ব্যাংকগুলো এই প্রতিবেদন জমা দেন। যারগুণগত মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেখানে রাষ্ট্র পৌঁছাতে পারছে না সেখানে ব্যাংকগুলো পৌঁছে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বৃত্তি দিয়ে পড়াশুনা চালাচ্ছে বলে দাবি করেন গভর্নর।

এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব খুলেছে। পথ শিশুদের জন্য ও ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব খোলার পরিকল্পনা করেছি। স্কুল ব্যাংকিং, নারী উদ্যোক্তার ব্যাংক ঋণ পাচ্ছে যার সবগুলোই মানবিক ব্যাংকিং।

বাংলাদেশ এবিবি এর চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার ব্যাংকিং সেবাকে অধিকার হিসেবে উর্লেখ করে বলেন, যে সেবাটা মানুষের অধিকার তা পাবো না কেন।  দেড় কোটি গ্রাহককে প্রায় ব্যাংকিং সেবায় নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন মানুষকে ঋণ দিতে যাই তখন গ্রাহকদের ওই টাকার সঠিক ব্যবহারের কথা বলবো। ঋণ দেওয়ার সময় গ্রাহকদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি করে কোন মুনাফা করা ঠিক হবে না।

ড. আতিউর রহমানের লেখা অন্যপ্রকাশ প্রকাশিত মানবিক ব্যাংকিং বইটিতে রয়েছে মোট চারটি অধ্যায়। যেখানে ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা, বর্গাচাষিদের জন্য ঋণ, তৃণমূল নারী উদ্যাক্তাদের ব্যাংকিং সহায়তা, কৃষি ও এসএমই খাতে অর্থায়ন, শিক্ষা বিস্তারে ব্যাংকিং, উন্নয়নের অভিযাত্রায় দেশ ব্যাপি রোড শো, মোবাইল ব্যাংকিং, গ্রিন ব্যাংকিং রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী, বিজয়ের চল্লিশ বছরসহ নানা বিষয়ের কার্যক্রমের চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যাংকার এ কিউ সিদ্দিকী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গ্রন্থকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থনীতি বিষয়ক কলামিস্ট আর এম দেবনাথ, বিআইবিএম এর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী, ব্যাংকার ও লেখক ফারুক মঈনউদ্দীন, অন্যপ্রকাশে সত্ত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

মানবিক ব্যাংকিং এর প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ। বইটির মোট পৃষ্ঠা ২০৮। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের লেখা মানবিক ব্যাংকিং বইটি অন্যপ্রকাশ প্রকাশিত ৫ম তম বই। যা একুশের বইমেলায় অন্যপ্রকাশের ষ্টলসহ দেশের সব জায়গাতে পাওয়া যাবে।

এসএই/