ভবন নিরাপত্তা: ক্রেতা জোটের নীতিকে বিজিএমইয়ের ‘না’

0
50
পোশাক কারখানা
ছবি: ফাইল ছবি

পোশাক কারখানাতৈরি পোশাক কারখানা ভবনের জন্য বিদেশি ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের প্রস্তাবিত ভবন-নীতিমালা পরিকল্পনার সরাসরি বিরোধিতা করেছে বিজিএমইএ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের প্রস্তাবিত নীতিমালা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানা জন্য অত্যন্ত কঠোর। সেগুলোর অনেকটাই জাতীয় ভবন নীতিমালার সঙ্গে যায় না।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) অভিযোগ করেছে, ক্রেতা জোটগুলো তাদের তদন্তের কাজ করতে অনেক দেরী করে ফেলেছে। এ-ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি গত সপ্তাহে বাংলাদেশের বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আলাদা চিঠি পাঠিয়েছে। এই চিঠিতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের করা প্রস্তাবিত ভবন নীতিমালার পুরোপুরি বিরোধীতা করেছে বিজিএমইএ।

সংগঠনটির সভাপতি আতিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় ভবন কোডকে পুনরায় ফের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে আহবান জানানো হয়েছে। যাতে করে প্রত্যেক কারখানা মালিক তাদের ভবন মানকে নিশ্চিত করতে পারেন।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, বিদেশি ক্রেতা কোম্পাোনিগুলো যে আন্তর্জাতিক ভবন কোড নীতিমালার কথা বলছে সেটা মানতে  আমাদের দেশের অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোষাক কারখানা মালিকরা হিমশিম খেয়ে যাবেন। এমনকি তাদের ব্যবসাও লোকসানসহ এক সময় সিঁকে ওঠতে পারে।

তিনি জানান, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের করা প্রস্তাবিত নীতিমালার অনেকগুলোই বাংলাদেশের জাতীয় ভবন নির্মাণ নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য নয়। এমনকি আমাদের দেশের নীতিমালার অনেকটাই  তাদের নীতিমালার মধ্যে নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই আন্তর্জাতিক জোট দুইটি আমাদের দেশের ভবন নীতিমালার পুরোটাকে অনুসরণ করবে। যেটা আমাদের স্বার্থের সাথে যায় না সেই রকম নীতিমালা আমাদের প্রয়োজন নেই’।

প্রসঙ্গত, প্রায় ২ হাজার গার্মেন্টস তদন্ত গত নভেম্বরে সরকার বাংলাদেশ ইউভার্সিটি অব ইঞ্জিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বুয়েট) এর অধীনে ৭০ টি প্যানেল গঠন করেছেন। ইতোমধ্যেই প্যানেলগুলো তাদের কাজও শুরু করে দিয়েছে।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম কয়েক দিন আগে  অর্থসূচককে জানিয়েছিলেন, পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স কাজ শুরু করলেও রাজনৈতিক সংকট তাদের কার্যক্রমকে পিছিয়ে দিয়েছে। কয়েক মাসের হরতাল-অবরোধে পরিদর্শন কাজ বন্ধ হয়ে গিয়ে ছিলো বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ক্রেতারা কারখানা ভবনগুলোতে স্প্রিঙ্কলার্ক সিস্টেম করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।অর্থ্যাৎতারা কারখানাগুলোতে উন্নতমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামদি ব্যবহারের কথা বলছে কিন্তু আমাদের দেশে এমন সরঞ্জামাদি উৎপাদন হয় না। তবে এই সিস্টেম ১৫ তলা বিশিষ্ট বা তার বেশি তলা বিশিষ্ট ভবনের জন্য প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে ৫ থেকে ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনের ওপরে ক্রেতাদের চাপ যোক্তিক নয় বলে মনে করেন তিনি।

অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে না রাখার ব্যাপারে বিজিএমইএ’র বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বিজিএমইএ অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়নি। বিজিএমইএকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভাইজারি কমিটিতে। তাই অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে বিজিএমইএকে রাখার ব্যাপারে আমরা আবদেন করেছি। আমরা আশা করছি, কারখানাগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিদর্শনের স্বার্থে বিজিএমইএকে অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তাছাড়া পরিদর্শন করা কারখানাগুলোর ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য করা হয়েছে রিভিও কমিটি। তাতে আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বুয়েট, অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও বিজিএমইএর সদস্য থাকবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ড ও ভবন নিরাপত্তায় কাজ করার পরিকল্পনা করছে এমন ১৫০ টি ইউরোপীয়ন খুচরা ক্রেতা কোম্পানি ও ব্র্যান্ড রয়েছে একর্ডের অধীনে। অন্যদিকে  শ্রমিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ২৬ টি কোম্পানি নিয়ে গড়ে উঠেছে ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্স। আগামি দুই-একমাসের মধ্যেই একর্ডের অধীনে বাংলাদেশের ১৭০০ পোশাক কারখানা ও অ্যালায়েন্সের অধীনে ৬০০ কারখানা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

এস রহমান/