চাকরি হারাচ্ছেন না ভারতের নকিয়া কর্মীরা

0
87
Nokia_Logo

Nokia_Logoভারতের চেন্নাই-তে অবস্থিত নকিয়া কারখানায় কর্মরত কর্মীদের চাকরি আগের মতোই বহাল থাকছে। এতোদিন ধরে অনেকেই ধারনা করছিলেন ভারতস্থ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে চলমান কর ফাঁকির মামলায় কর্মীদের ছাঁটাই করতে পারে তারা। এছাড়া মাইক্রোসফটের কাছে তাদের কোম্পানি হস্তান্তরের যে চুক্তি তাও ফিকে হয়ে যাবে। কিন্তু সেই ধারণা নশ্চ্যাৎ হতে বসেছে।

সম্প্রতি ভারতস্থ কোম্পানিটির নির্বাহী প্রধান রিসতো সিলাসমা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহুর্তে কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না তারা। এছাড়া কর ফাঁকির ইস্যু মাইক্রোসফটের কাছে চেন্নাইভিত্তিক কারখানাটি হস্তাস্তরের চুক্তিতে কোনো প্রভাবও ফেলতে পারবে না বলে জানান তিনি।

শনিবার দ্য ইকোনমিকস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সালে তাদের বিরুদ্ধে ২১ হাজার ১৫৩ কোটি রুপি কর ফাঁকির অভিযোগে মামলা করে ভারতের কর অধিদপ্তর । বিষয়টি নিয়ে গতসপ্তাহে সিলাসমা দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রী আনন্দ শর্মার সাথে এক বৈঠক করেন। বৈঠকে চেন্নাইতে অবস্থিত নকিয়া ফ্যাক্টরির ব্যাপারে তিনি জানান, যদি কর ইস্যুটি নিষ্পত্তি না করা হয়, তবে শীঘ্রই তারা তাদের সম্পূর্ণ সম্পদ মাইক্রোসফটের কাছে হস্তান্তর করবে।এসময় হস্তান্তরের অনুমতিও চান তিনি।

নকিয়ার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিটি ঘোষণা করেছিল চলতি অর্থবছরে তারা ৭২০ কোটি ডলার ব্যবসা করতে সক্ষম হবে। এ ঘোষণা অনুযায়ী ভারতে চলমান নকিয়ার বিরুদ্ধে  কর ফাঁকির মামলা তাদের এই ব্যবসাকে কোনোভাবে দমাতে পারবে না। এমনকি মাইক্রোসফটের সাথে তাদের যে চুক্তি হয়েছে তাতেও কোনো চিড় ধরাতে পারবে না।

২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিকেই  ভারত সরকার মামলাটি নিষ্পত্তি করবে বলে আশা করছেন তারা।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে চেন্নাই কারখানাতে যারা কর্মরত আছেন তাদের চাকরি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা। তবে এই মুহুর্তে আমরা কর্মী ছাটাইয়ের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। এ সময় মাইক্রোসফটের কাছে চেন্নাইভিত্তিক কারখানাটি হস্তাস্তরের অনুমতিও চান তিনি।

তিনি আরও জানান, যদি অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে ফ্যাক্টরি শুধু ফ্যাক্টরিই থেকে যাবে। কোন ব্যবসা হবে না। আর ব্যবসা না হলে কর্মীদের দেখাশোনা ও সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, ভারতের চেন্নাই-তে অবস্থিত নকিয়া কারখানায় কর্মরত রয়েছে প্রায় ৮ হাজার কর্মী। যাদের ২০ শতাংশই নারী। এছাড়া রয়েছে ৩০ হাজার সাব-কন্ট্রাকটর যারা কোম্পানির পন্য ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত।

এস রহমান/