চট্টগ্রাম-মংলা নৌ পথে কন্টেইনার পরিবহণ কাল থেকে শুরু

0
73

mvshikhaদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাথে সড়ক পথের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে চট্টগ্রাম-মংলা-চট্টগ্রাম  নৌ  পথে কন্টেইনার পরিবহণ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। আগামিকাল শনিবার  আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য বোঝাই ‘এমভি বাংলার শিখা’ মংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাবে।

মংলা বন্দর থেকে এতোদিন সিঙ্গাপুর  এবং মালয়েশিয়া সরাসরি কন্টেইনার পরিবহণ চালু থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে কোনো পরিবহণ সার্ভিস ছিল না। বিএসসি’র এমন উদ্যোগ পণ্যের পরিবহণ খরচ কমানোর পাশাপাশি সড়ক পথের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাসকরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা।

জানাযায়, শনিবার থেকে মংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে ৬৮১ টিইউএস (প্রতিটি ২০ ফুট কন্টেইনার হিসাবে) কন্টেনার ধারণ সক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ ‘এমভি বাংলার শিখা’।  ১৯৯১ সালে বিএসসির বাহিরে যুক্ত হওয়া এ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৩ থেকে  প্রথমবারের মতো যাত্রা করবে । মংলা বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগবে ১৮ ঘন্টা ।  সোমবার পণ্য বোঝই করে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। চট্টগ্রামে বুধবার পণ্য খালাশ করে আবার ও শনিবার মংলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। একটি মাত্র ফিডার  জাহাজ দিয়ে এভাবে প্রতিমাসে চার ভয়েসে কন্টেইনার আনা নেওয়া করবে। প্রতি কন্টেইনারের জন্য খরচ হবে ১২০ ডলার  বা সাড়ে ৯ হাজার টাকা করে। আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত ফুট রেফার কন্টেইনারের জন্য খরচ পড়বে ১৫০ ডলার বা সাড়ে ১১ হাজার টাকা । এর সাথে পণ্য উঠা-নামা খরচ যোগ হবে ।

বিএসসি’র মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে মংলা বন্দরের নৌ পথে কন্টেইনার পরিবহণ চালু হলে খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মৎস, পাট ও পানজাত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া পণ্য যাতায়াতেও  দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।

গেল অক্টোবর মাস থেকে পানগাঁও টার্মিনালে প্রথমবারের মত নৌ পথে কন্টেইনার পরিবহণ শুরু হয়। তবে তা চার মাস পেরিয়ে গেলেও  সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় না থাকায় কন্টেইনার পরিবহণে আশানুরূপ কোন সাড়া মিলেনি। পানগাঁও টার্মিনালের ধারাবাহিকতায় মংলা বন্দরের সাথেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার পরিবহণ শুরু করা হয়। সমন্বয়হীনতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে মৎস সম্পদ রপ্তানিসহ  দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের নৌ পথে কন্টেইনার পরিবহণে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণে ব্যর্থ হবে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।