বাংলার তাজমহল

0
764
Taj Mohol

Taj Moholবিভিন্ন কারণে সোনারগাঁ বিখ্যাত। প্রাচীন বাংলার রাজধানী হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁ। প্রাচীনকালে রাজধানী হিবেসে সকলেরই পরিচিত ছিল সোনারগাঁ। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেলেও বর্তমানে সোনারগাঁ বিভিন্ন কারণে সবার পরিচিত। নতুন রূপে সেজেছে সোনারগাঁ।

নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে যা দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
সোনারগাঁ একটি অতি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদ, যার প্রাচীন নাম সুবর্ণ গ্রাম। সোনারগাঁ তার সমৃদ্ধি হারালেও কালের সাক্ষী হিসেবে রয়েছে সে সময়কার গৌরবময় দিনের প্রাচীন সব নিদর্শন, যা সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সোনারগাঁয়ে রয়েছে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের মাজার, পাঁচপীরের দরগা, সোনারগাঁ ইসলামী বিদ্যায়তনের কিছু স্মৃতি চিহ্ন, গোয়ালদীতে আলাউদ্দিন হোসেন শাহী মসজিদ, বাংলার ব্যাবিলনখ্যাত প্রাচীন পানাম নগরী, নীলকুঠি, টাকশাল বাড়ী, মোয়াজ্জেমাবাদ বা মোয়াজ্জেমপুর (বর্তমান মহাজমপুর) মসজিদ, প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন কয়েকটি সেতু, এ ছাড়া অসংখ্য পুরাকীর্তি। সোনারগাঁয়ের বারদীতে রয়েছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সাধক পুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পৈতৃক নিবাস যেখানে গড়ে উঠেছে জাদুঘর ও পাঠাগার।

এছাড়াও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন বাংলার তাজমহল তৈরি হয়েছে সোনারগায়েঁ।

বাংলার তাজমহল

বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য আগ্রার তাজমহলের আদলে সোনারগাঁয়ের পেরাব গ্রামে নির্মিত হয় অনুপমশৈলীর স্থাপত্যে বিশ্বের ২য় ‘বাংলার তাজমহল’। ২০০৮ সালে এটি উদ্বোধন করা হয়। এখানে রয়েছে রাজমণি ফিল্ম স্টুডিও, রাজমণি ফিল্ম সিটি রেস্টুরেন্ট।

যেভাবে যাবেন বাংলার তাজমহল:

ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের পেরাবো এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা মু্ক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মণি গড়ে তুলেছেন বাংলার তাজমহল। এই তাজমহল দেখতে আপনাকে যেতে হবে সোনারগাঁয়ের পেরাবো গ্রামে। প্রবেশ ফি ৫০ টাকা। সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে অথবা গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র যাতায়াতের জন্য লোকাল ও স্পেশাল বাস আছে। ভাড়া বিশ থেকে ত্রিশ টাকা। প্রথমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড হয়ে নারায়ণগঞ্জ যেতে হবে। এরপর নারায়ণগঞ্জ থেকে পেরাবো গ্রামে যেতে হবে।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর:

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন সোনারগাঁ। এখানে ১৯৭৫ সালে স্থাপিত হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। পানাম নগরের সর্দার বাড়িতে স্থানান্তরের মাধ্যমে সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর হিসেবে এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু গ্যালারি, রয়েছে কারুপল্লী, লোকজমঞ্চ, লাইব্রেরি ও ডকুমেনটেশন সেন্টার। ফাউন্ডেশন চত্বরে রয়েছে জয়নুলের সংগ্রাম ভাস্কর্য, শিল্পাচার্যের আবক্ষ ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আদলে আবক্ষ ভাস্কর্য, আরও রয়েছে ফুলগাছ লতাপাতায় সবুজের সমারোহের মাঝে খালের মধ্যে ময়ূরপঙ্খি নৌকায় ওঠার চমৎকার সুযোগ।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম:

সোনারগাঁয়ের বারদীতে রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাধক পুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্দির। সেখানে দেশ-বিদেশের হিন্দুরা পুণ্য লাভের আশায় এসে থাকে। এছাড়া রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, যেখানে বর্তমান সরকার জ্যোতিবসু স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করেছে। এই জাদুঘর এখন দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।