স্নায়ুর চাপে ব্যাংকিং খাত

0
71
six bank

six bankযতই লভ্যাংশ ঘোষণার সময় ঘনিয়ে আসছে ততই স্নায়ুর চাপে কাবু হচ্ছেন ব্যাংকিং খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে কমে যাচ্ছে এ খাতের শেয়ারের দাম। কমছে খাতটির বাজারমূলধন। গত সপ্তাহে লেনদেনও নেমেছে অর্ধেকে।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ৮৭ ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। ডিএসইতে ৩০ টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৪ টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বাকী ২৬ টিই শেয়ারের দর হারিয়েছে।

বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দর হারানোয় কমেছে এ খাতের বাজারমূলধন। গত সপ্তাহে লেনদেন শেষে ডিএসইতে ব্যাংকিং খাতের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৭ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারমূলধন কমেছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা সাড়ে ৩ শতাংশ।

শেয়ারের দরে নিম্নমুখী ধারা এবং লভ্যাংশ সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ব্যাংকিং খাতের সাময়িকভাবে আগ্রহও কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনা-বেচা হয়েছে। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে ব্যাংকিং খাতে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১২৩ কোটা ৬৫ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে ব্যাংকিং খাতে লেনদেন কমেছে ৫২ শতাংশ, আগের সপ্তাহে যা ২৩ শতাংশ বেড়েছিল।

পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য লভ্যাংশকে ঘিরে শেয়ারের দর উঠা-নামা করে থাকে। ভাল লভ্যাংশ দিতে পারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন অনুমান ও প্রত্যাশা প্রবল হয়ে উঠলে শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যদিকে লভ্যাংশ খারাপ হওয়ার আশংকা থাকলে শেয়ারের দাম কমে যায়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব ব্যাংকের হিসাববছর শেষ হয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ দিতে শুরু করে। আর এটি চলে এপ্রিলের প্রথমভাগ পর্যন্ত।

২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ব্যাংকিং খাত ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যায়। গত বছর প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে ছিল এ অস্থিরতা। বছরের শেষভাগে হরতাল-অবরোধে স্থবির ছিল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এর প্রভাবে ঋণ বিতরণ, আমদানি অর্থায়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমে যায়। অন্যদিকে বেড়ে যায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সব মিলিয়ে ব্যাংকের নিট মুনাফা কমতে পারে এমন আশংকায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আর এরই প্রভাব পড়েছে বাজারে।

ব্যাংকিং খাতে বছরের প্রথম কোম্পানি হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক আগামি রোববার বোর্ড মিটিংয়ের ঘোষণা দিয়েছিল। ওই বৈঠকে ২০১৩ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন ও লভ্যাংশ ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগের কাজ শেষ না হওয়ায় তারা নিরীক্ষা প্রতিবেদন বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থাপন করতে পারছে না। তাই এ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়টিও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার তালিকাভুক্ত ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ২৪ টির দাম কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে দু’তিনটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা না আসা পর্যন্ত হয়ত এ খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমবে না। এ খাতের শেয়ারে তাদের অংশগ্রহণও বাড়বে না। প্রথম দিকের ঘোষিত লভ্যাংশ তাদের প্রত্যাশার কাছকাছি হলে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম ফের উর্ধমুখী হতে পারে। অন্যদিকে ওই লভ্যাংশ তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যার্থ হলে শেয়ারের দর আরো কমে যেতে পারে। তাই দু’তিনটি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা এ খাতের শেয়ারের প্রতি পর্যবেক্ষণ করার অবস্থানে থাকবেন।