আশ্রয় পাবে ১১ শ গৃহহীন এতিম শিশু

0
76
Steet child
Steet child
ছবি: সংগৃহীত

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদপ্তর ‘সরকারি শিশু পরিবারের হোস্টেল নির্মাণ (৮ ইউনিট)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১ হাজার ১০০ গৃহহীন এতিম শিশু নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির সুযোগ পাবে।

এ প্রকল্পটি আগামি মঙ্গলবার একনেকের সভায় ওঠবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে মোট ব্যায় ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, ১৯৬১ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর ৭৩টি শিশুসদন পরিচালনা করে আসছে। পরবর্তী সময়ে এসব শিশু সদনের নাম পরিবর্তন করে শিশু পরিবার রাখা হয়। এ সকল শিশু পরিবারের ভবনগুলো পুরাতন ও জরাজীর্ণ হওয়ায় ১৯৮০-৯৫ মেয়াদে ১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ২৩টি শিশু পরিবার সংস্কার করা হয়।একই সাথে ৩টি শিশু পরিবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়।

এছাড়া ২য় পর্যায়ে অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৭টি শিশু পরিবার সংস্কার করা হয় এবং ২টি শিশু পরিবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়। এর ফলে মোট শিশু পরিবারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৫টি। সংস্কার করা এসব শিশু পরিবারগুলো সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি।

এতে সংস্কারের পরও এসব শিশু পরিবারগুলো ভালো অবস্থানে ফিরে আসেনি। এরপর পিডব্লিউডি বেশকিছু শিশু পরিবার পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষিত শিশু পরিবার থেকে সবচেয়ে খারাপ ৮টি শিশু পরিবার নির্মাণ করা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটিতে প্রস্তাব করা হয়েছে  জুলাই ২০১৩ সাল থেকে আরম্ভ হবে। আর শেষ হবে জানুয়ারি ২০১৪ সালে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮টি শিশু পরিবার কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। যা দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কমিশন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, শতকরা ৩৪ দশমিক ৮ ভাগ পথশিশু কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করে ১ থেকে ৬ মাস। ২৯ ভাগ পথশিশু স্থান পরিবর্তন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কারণে, আর ৩৩ ভাগ পাহারাদারদের কারণে। এরা ফুটপাথে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটালেও প্রায় ৫৬ ভাগ শিশুকে মাসিক ১০০-২০০ টাকা নৈশ প্রহরী বা মাস্তানকে দিতে হয়।

বিবিএসের ওই একই গবেষণায় বলা হয়, পথশিশুদের প্রায় ৪৪ ভাগ ধূমপান করে এবং রাতে ঘুমানোর জন্য ৪১ ভাগ শিশুর কোন বিছানা নেই। পথশিশুদের প্রায় ৪০ ভাগ প্রতিদিন গোসল করতে পারে না ও ৩৫ ভাগ শিশু খোলা জায়গায় পায়খানা করে। কোন মতে খাবার যোগাড়ের জন্য ৮০ ভাগ পথশিশু বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। ৮৪ ভাগের কোন শীতবস্ত্র নেই। এতে আরও বলা হয়, অসুস্থ হলে প্রায় ৫৪ ভাগের দেখাশোনার জন্য কেউ নেই। অর্থের অভাবে পথশিশুদের ৭৫ ভাগ ডাক্তারের কাছে যেতে পারে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের শিকার হয় ১৯ ভাগ পথশিশু। অথচ এদের অর্ধেকের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে না। আবার পথশিশু কিংবা ভবঘুরেরা যদি প্রতিবন্ধী হয় তাহলে সমস্যা আরও প্রকট। কারণ প্রতিবন্ধীদের সেবাযত্ন করার কোনো ব্যবস্থা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নেই। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের অবকাঠামোও খুব দুর্বল। লোকবলের অভাব তো আছেই। দেশে অসংখ্য এনজিও রয়েছে অথচ হাতেগোনা কয়েকটি এনজিও পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে যদি বড় এনজিওগুলো কাজ করে তাহলে বিবর্ণ চিত্রের অনেকটাই লাঘব সম্ভব।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে পথশিশুর সংখ্যা ১২ লাখ। পথশিশু বৃদ্ধির এ হার বজায় থাকলে ২০১৫ সাল নাগাদ সংখ্যা ১৪ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। অথচ ক্রমবর্ধমান এ শিশুদের কল্যাণে নেই কোন নীতিমালা।

এইচকেবি/