রাজশাহীতে সরিষার বাম্পার ফলন, খুশি কৃষকরা

0
95

sharishaরাজশাহীতে চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। কৃষকরা বিভিন্ন জাতের সরিষা উৎপাদন করে থাকে। এর মধ্যে টরি-৭, বারি-৯ এবং হাইব্রিড সরিষা অন্যতম। অনুকূল আবহাওয়া, চাষে কম খরচ এবং বাজার মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

ইতোমধ্যে ক্ষেতে ক্ষেতে সরিষা কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবারো জেলাতে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠে মাঠে ক্ষেত থেকে এখন সরিষা তুলতে ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ভাল দামের আশায় প্রত্যাশা করছেন তারা। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ (৪০ কেজি) সরিষা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সরিষায় কৃষকেরা লাভবান এবং উৎপাদিত সরিষায় স্থানীয়ভাবে ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন চাষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১৯ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বোয়ালিয়ায় ৬৩ হেক্টর, পবা উপজেলায় ৭৭৫ হেক্টর, তানোরে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর, মোহনপুরে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর, বাগমারা উপজেলায় ৭ হাজার ৪৫ হেক্টর, দুর্গাপুরে ২ হাজার ৬০ হেক্টর, পুঠিয়ায় ১ হাজার ৭০ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ৫ হাজার সাড়ে ৭০ হেক্টর, চারঘাট উপজেলায়  ৪১০ হেক্টর এবং বাঘা উপজেলায় ২৬৮ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

কৃষকরা জানান, আমন ধান ওঠার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত জমি ফাঁকা থাকে। তাই অন্যান্য শাক সবজি পাশাপাশি বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে সরিষার আবাদ করে থাকেন কৃষকরা। এবার একদিকে  আবহাওয়া অনুকূল, চাষে কম খরচ এবং বাজার মূল্য ভালো থাকায় কৃষকেরা গত বছরের ন্যায় এবারও  বেশিরভাগ জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। তারা আরও জানান, এক বিঘা জমিতে সার, বিষ, চাষ, বীজ বপন, পানি সেচসহ সব মিলিয়ে খরচ হয় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ মণ সরিষা উৎপাদন হয়। এসব সরিষা বাজারে বিক্রি হয় ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে ২০১০ সাল থেকে এই জেলায় সরিষার আবাদে ঝুঁকছেন এলাকার কৃষক। আর তখন থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে জোরেশোরেই ধাক্কা দিচ্ছে। প্রভাব মোকাবেলায় রাজশাহীর কৃষকদের কৃষি ফসল উৎপাদনের বিভিন্নতা দেখা দিয়েছে। তাই কম সেচের ফসল উৎপাদনে কৃষকরা ঝুঁকছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে দেশের বাজারে কৃষি ফসলে অবিরত দরপতন। বহুমাত্রিক সমস্যা মাথায় নিয়ে লাভের আশায় কৃষক বিভিন্ন ধরনের ফসলাদি উৎপাদন করছেন। এরই অংশ হিসেবে কৃষকরা সরিষা চাষের দিকে বেশি করে ঝুঁকে পড়ছেন।

দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের সরিষা চাষি আকবর আলী বলেন, গতবার আমি ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে ভালো দামে তা বিক্রি করি। এবারো দাম ভালো পাওয়া যাবে এই আশায় সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে বারি-৭ জাতের সরিষা চাষ করি। আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় এবারো ভালো ফলন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে বীজ, সার, চাষ, কৃষি শ্রমিক, সেচসহ সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৭ শ টাকা। এতে ৩৮ থেকে ৪৮ মণ সরিষা উৎপাদন হবে। বর্তমান বাজার মূল্যে এবার ভালো লাভ হবে সরিষা চাষে।

মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি গ্রামের নাজিমুদ্দিন শেখ চার বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন।  তিনি জানান, এবার আবাদ ভালো হয়েছে। সরিষা চাষে সেচ কম লাগে, বাজারে দাম ভালো, সরিষার খৈল ও সরিষাভূষি গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সরিষার বাজার দর ভালো থাকলে কৃষকেরা অন্য ফসলের লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি জানান।

সাকি/