বই মেলায় ফাগুনের ঢেউ

0
139
book fair

book fairহলদে পাখির ডানার রঙে রঙিন এখন বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে থোকায় থোকায় গাঁদা ফুল। হঠাৎ এক রাতের ব্যবধানে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে যেন সাজ সাজ রব।

ফাল্গুন আসলেই বাঙালির হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায় বাঙালিয়ানা। আর ফাগুনের হাওয়ায় দোলে  তরুণ-তরুণীরা হাজির বই মেলায়। তরুণীদের গায়ে হলুদ শাড়ি, কানে হলুদ গাঁদা ফুল, মাথায় পলাশ ফুল ও ফুলের বেনী।

মেলায় সবাই আনন্দে উদ্বেল। বসন্তের স্রোতে ভাসছে সবাই। সবার কথা একটাই- ভাষার স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে আজ মেলায় এসেছি। ভাষা তার প্রাণ ফিরে পাক এমন প্রত্যাশা সবার।

আজকে যারা মেলায় এসেছেন কেবল তারাই বুঝতে পারেন বসন্তের কী উষ্ণ অনুভূতি! মেলায় যেন ভ্রমরের গুঞ্জন। গুনগুন শব্দে সরগরম মেলা প্রাঙ্গণ।

লেখিকা মুনা চৌধুরী বলেন, আজকের মেলাটা আসলেই প্রাণবন্ত হয়েছে। মেলায় পাঠক পাঠিকা, লেখক লেখিকাদের পদচারণায় মুখরিত।

আজকের বই মেলায় আমার প্রকাশিত বই অগ্নি কিংবা জলের গল্প প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এটা আমার প্রথম বই নয়। আমার বাবা আমার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন এটা আমার জন্য আনন্দের। আমি শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক আরও লেখা লিখব।

ড. জাফর ইকবাল মেলায় এলে তার ভক্তরা তাকে ঘিরে রেখে সবাই অটোগ্রাফ চাইছে, তিনি তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে দিতে থাকেন অটোগ্রাফ। অটোগ্রাফ শেষে তিনি বলেন, সায়েন্স ফিকশনের লেখার কৌতূহল জাগে হুমায়ূন আহমেদ সায়েন্স ফিকশন লেখা দেখে। আজকের মেলা এক অনন্য মেলা।

মেলায় কথা হয় গায়ক ফকির আলমগীর বলেন, আজকে বই মেলা ফাল্গুনের বইমেলা। বইয়ে ফাল্গুন। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সব জায়গাই ছিল সরগরম।
বইমেলা হোক সকল অনচার, সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত এ সংকল্প হোক আমাদের সবার।

মেলায় আগত একে হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমনা ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, আজকে মেলাটা একটা ভিন্ন ধরনের। অনেক লোক এসেছে সবাই হলুদ শাড়ি, হলুদ পাঞ্জাবি, টি-শার্ট পরে মেলায় এসেছে।

এই ছাত্রী আরও বলেন, আজকে আমরা ভাষার এই দিনকে একটি আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেমে বেঁধে ফেলেছি। আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বাংলা ভাষার ব্যবহার আমাদের তেমন কোনো জোর তাগিদ নেই।

কবি নজরুল বিশ্ব বিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এস এম রেজাউল হক বলেন, “আমি মেলায় প্রতিদিনই আসি কিন্তু আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম।

সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র শেখ মো. আজিজুল হক সৈকত বলেন, আমরা বাংলা ভাষা নিয়ে গর্ব করি ঠিকই, কিন্ত বাংলা আমাদের প্রাণের ভাষায় এখনো পরিণত হতে পারেনি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকের বাসায় এখন হিন্দি সিরিয়ালের ধুম। কেউই আর বাংলা নাটক, ছবি কিংবা কোনো অনুষ্ঠান দেখছে না।

ছোট ছোট শিশুরা ডরিমন, টম অ্যাণ্ড জেরীতে সারাদিন ডুবে থাকে। অনেক শিশু আছে যারা বাংলার চেয়ে হিন্দি বলতে পারে বেশি।

আজকে মেলায় এসেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড.জাফর ইকবাল, নাট্য শিল্পী মামুনুর রশীদ, গায়ক ফকির আলমগীর, কবি দিলদার হোসেন, আলী ইমামসহ নাম না জানা লেখক লেখিকার পদচারণায় ছিল মুখরিত।

স্পেশাল নিউজ অর্থসূচক.কম/ এসএস