এনবিআরের নজরদারিতে বহুজাতিক কোম্পানি

0
104

MNCবহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য মুদ্রা পাচার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি শুরু করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ সেল। ট্রান্সফার প্রাইসিং বা পণ্য কেনা-বেচার মূল্য কমিয়ে-বাড়িয়ে দেখিয়ে এসব কোম্পানি বিদেশে মুদ্রা পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিজেদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনের মাধ্যমে পাচারের কাজটি সম্পন্ন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দেশে ট্রান্সফার প্রাইসিং আইন না থাকার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ নিয়ে মুদ্রা পাচার করছে। ২০১২ সালের অর্থবিলে প্রথমবারের মত ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এটি কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি গত ১৮ মাসে। প্রায় দেড় বছর পর গত সপ্তাহে এই আইনের আলোকে মুদ্রা পাঁচারের বিষয়টি দেখভাল করতে একটি সেল গঠন করেছে এনবিআর। সংস্থার সদস্য পারভেজ ইকবালকে এ সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর এ সেলের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের যুগ্ম-পরিচালক সাব্বির আহমেদ।

ট্রান্সফার প্রাইসিং প্রতিরোধ সেল শুধু বহুজাতিক কোম্পানি নয়, দেশীয় কোম্পানিগুলোর উপরও নজরদারি করবে। বিশেষ করে দেশীয় যেসব কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উল্লেখ, ট্রান্সফার প্রাইসিং হচ্ছে পণ্য কেনা-বেচার ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য আড়াল করে সুবিধাজনক মূল্য দেখিয়ে অর্থপাচার। রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখানো হয়। আবার আমদানির ক্ষেত্রে দেখানো হয় প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি। ধরা যাক, এক ইউনিট পণ্য ২৫ ডলারে রপ্তানি করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কোম্পানি মূল্য ঘোষণা করেছে ২০ ডলার। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ ডলার রপ্তানি-আয় দেশে প্রত্যাবাসন করলেই চলবে। বাকী ৫ ডলার চাইলেই বিদেশে রেখে দেওয়া সম্ভব। উল্টোদিকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য হয়ত ২০ ডলার।কিন্তু কোম্পানিটি ২৫ ডলার মূল্য দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পরিশোধ করছে। এর মাধ্যমে ৫ ডলার বিদেশে রেখে দেওয়া যাচ্ছে।

এনবিআরের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ট্রান্সফার প্রাইসিং বাবদ বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়েছে ৬৩ কোটি ডলার। আর এ খাত থেকে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ৩৫ কোটি ডলার।