৭ মাসে কৃষি ঋণ বিতরণ ৬০ শতাংশ

0
53
কৃষি লোন

কৃষি লোনচলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে আট হাজার ৮১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ লক্ষ্যমাত্রার ৬০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে ঋণ আদায় হয়েছে ৩০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে বিতরণকৃত এ ঋণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এক হাজার ৯৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা ১৪ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ৭ মাসে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে আট হাজার ৮১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে পাঁচ হাজার ৭৫৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৬৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে বেসরকারি ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলে বিতরণ করেছে তিন হাজার ৬৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

৩৩ টি দেশীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে এ ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে দুই হাজার ৮২৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৫২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৩০ শতাংশও পূরণ করতে পারেনি ১০ টি ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, বেসিক ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, স্টান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। এছাড়া সদ্য চালু হওয়া সাতটি ব্যাংক এ খাতে এখনও ঋণ বিতরণ শুরু করেনি।

চলতি অর্থবছর বিদেশি ৯টি ব্যাংকের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ২৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা যা তাদের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৪ দশমিক ২০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্থান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং ওরি ব্যাংক লিমিটেড কোনো কৃষি ঋণ বিতরণ করেনি। লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশ পূরণ করেনি সিটি ব্যাংক এনএ।

আলোচ্য সময়ে মোট ঋণ আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৮২৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় হয়েছে বিতরণের ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং দেশীয় ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আমন মৌসুমের পর এখন বোরো আবাদ শুরু হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে ঋণের চাহিদা বেড়েছে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর মতো বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলোও কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ সব কারনেই মূলত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলো ঋণ আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেয়ায় এক্ষেত্রেও সফলতা আসছে বলে তিনি জানান।