আশুগঞ্জ সার কারখানায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

0
267

Ashu_gonj_fertilizerহেবজু মিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার মেয়ে আঁখি আক্তার শারীরিক প্রতিবন্ধী। ‘মুক্তিযোদ্ধা’ কোটা, এর ওপর রয়েছে প্রতিবন্ধী কোটাও। তাই আঁখির চাকরি অনায়াসে হবে- এমন আশা করছিল পরিবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আশায় গুড়ে বালি।চাকরি হয়নি বৃষ্টি চক্রবর্তীরও।

মৌলভীবাজারের একমাত্র প্রার্থী ছিলেন তিনি। যদিও চাকরির নিয়োগ শর্তে জেলা কোটা উল্লেখ ছিল। একই সার কারখানায় চাকরিকালীন সময়ে মারা যাওয়া জয়নাল আফসারের ছেলে ইমন ‘নির্ভরশীল’ কোটায় চাকরি পেতে পারেন বলে আশায় ছিল পরিবার। ‘নির্ভরশীল’ কোটা মানা হয়নি, তাই চাকরিও জোটেনি তাঁর। প্রায় ৩ লাখ টাকার দিতে রাজি হওয়ার পরও কোটা না থাকার অজুহাতে এমএলএসএস পদে চাকুরী হয়নি আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের মোঃ সুমন মিয়া ও রায়হানের।টাকা দেয়নি বলে ভাল পরীক্ষা ও উচ্চ পর্যায়ে তদবির করেও চাকুরী হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শফিকুল ইসলাম।

তবে ‘অন্য রকম’ যোগ্যতায় চাকরি হয়েছে মো. আরিফুল ইসলাম সুমন ও মো. শরিফ খন্দকারের। এ দুজনই সার কারখানায় অতিরিক্ত প্রধান ব্যবস্থাপকের (প্রশাসন) ভাগ্নে। চাকরি পেয়েছেন সার কারখানায় সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনের সভাপতির ছেলে মিজান আহমেদও। আত্মীয়দের মধ্যে পদ ভাগাভাগি করে সার কারখানায় চাকরির এ খবর আশুগঞ্জ সার কারখানার।সার কারখানায় সর্বশেষ নিয়োগ দেওয়া ৫৯ জনের মধ্যে বেশির ভাগই কম্পানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আত্মীয়সহ অন্য যাঁদের চাকরি হয়েছে তাঁদেরকেও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে আশুগঞ্জ সার কারখানার ২৫টি পদের বিপরীতে ৫৯ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত হয় নিয়োগ পরীক্ষা। এ বছরের ১ জানুয়ারি ঢাকায় সার কারখানার এক সভায় ৫৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেন অতিরিক্ত প্রধান ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন। সেই অনুসারে তাঁদের ইতিমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সার কারখানায় সিবিএ নেতাদের মধ্যে সভাপতি মো. জিন্নাত আলীর ছেলে মিজানের চাকরি হয়েছে টেলিফোন অপারেটর পদে। দপ্তর সম্পাদক গাজী জমসের আলীর ভাগ্নি জামাই গাজী তারিকুল ইসলাম চাকরি পেয়েছেন টুলসকিপার পদে। চাকরি পেয়েছেন সহ-ক্রীড়া সম্পাদক জান্নাত হোসেনের পুত্রবধূ সুমি খানম, সহসাধারণ সম্পাদক ওহাব মিয়ার ছেলে আতিকুল ইসলাম, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক সরকার আমিনুল ইসলামের ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল মামুন। এমনকি সার কারখানার অতিরিক্ত প্রধান ব্যবস্থাপক মো. আনোয়ার হোসেনের দুই ভাগ্নে মো. আরিফুল ইসলাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও শরীফ খন্দকার টালি ক্লার্ক পদে চাকরি পেয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা মো. হেবজু মিয়া বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আমার মেয়ের চাকরিটা হলে শান্তি পেতাম। অনেকেই মুখে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু কাজে তো কিছু দেখি না। নিয়োগ নিয়ে কত কিছু হয়েছে শুনেছি। কিন্তু আমি এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না।’

শ্রমিক সংগঠন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘কাজ করলেই বদনাম হয়। আর কাজ না করলে হয় না। দীর্ঘদিন পর কারখানায় নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কেন্দ্রে। আমি মনে করি নিয়োগ স্বচ্ছ হয়েছে। তবে কারখানাসংশ্লিষ্ট কেউ যদি চাকরি পেয়ে থাকে, তা কোটা কিংবা অন্য সব নিয়ম মেনেই পেয়েছে।

এ ব্যাপারে সার কারখানায় অতিরিক্ত প্রধান ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জেলা কোটায় আমার ভাগ্নে শরিফ খন্দকারের চাকরি হয়েছে। আর সুমন আমার আত্মীয় নয়, এলাকার (ময়মনসিংহ) ছেলে। অনুন্নত এলাকা হিসেবে দিনাজপুরের সুমি খানমের চাকরি হয়েছে। বয়সের হেরফেরের কারণে মৌলভীবাজারের একমাত্র প্রার্থী বৃষ্টি চক্রবর্তীর চাকরি হয়নি।’