রাজনীনৈতিকরা সুবিধা পাবে এমন বিদেশি সহায়তা নেওয়া উচিত নয়

0
98
নিশা দেশাই

NishaDesaiBiswalবাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সরকার মনে করছে, এই পরিস্থিতির উন্নয়নে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠান, সাম্প্রদায়িক হামলা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধসহ  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ক্ষমতাসীন দলের। পাশাপাশি রাজনীতিকরা সুবিধা নিতে পারে এমন বিদেশি সহায়তা প্রত্যাহার করা উচিত এবং ভবিষ্যতে সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগ শক্তিশালীকরণের শর্ত জুড়ে দেয়া দরকার। একই সাথে  সম্প্রতি মার্কিন সিনেটে বাংলাদেশ সম্পর্কিত শুনানিতে এমন মনোভাবই ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। খবর রেডিও তেহরান এবং এএফপি বার্তা সংস্থার।

সিনেটর রবার্ট মেনেন্ডেজ’র সভাপতিত্বে শুনানিতে দু’টি প্যানেল অংশগ্রহণ করে। প্রথম প্যানেলে অংশ নেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্টারন্যাশনাল লেবার অ্যাফেয়ার্সের সহযোগী ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এরিক বিয়েল।

প্রসপেক্টস ফর ডেমোক্রেটিক রিকনসিলিয়েশন এন্ড ওয়ার্কাস রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে  অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় দেশাই বলেন, সংসদ সদস্যরা সরাসরি সুবিধা নিতে পারেন এমন সহায়তা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যতে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগকে আরও কার্যকর করে তোলার বিষয়কে গুরুত্ব প্রদান করা হবে জানান তিনি।

শ্রমিকদের মান উন্নয়নের আহবান জানিয়ে নিশা দিশাই বলেন, কারখানার পরিবেশ নিরাপদ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তায় সরকার ও সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে ৩ লাখ লোক কারখানায় কাজ করে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দেশাই জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জন এবং শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বালাদেশিদের ভূমিকা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। তবে ওবামা প্রশাসনের ধারণা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

এ সম্পর্কে দেশাই বলেন, স্বছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের অভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

দশম সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে নিশা দেশাই বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে নিয়ে আমেরিকাসহ অন্যরা কড়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেসরকারি পর্যায়ে সরকারি ও বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমি প্রথম ওই অঞ্চল সফরে যাই নভেম্বরে। তখন আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচনের পন্থা বের করার আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ যে ভূমিকা গ্রহণ করে তাতে আমরা সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক হলো সে উদ্যোগ সফল হয় নি।

সিনেটর রবার্ট মেনেন্ডেজ বলেন, বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দল ছাড়াই গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। বর্তমান সংসদ বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বহীন। তিনি বলেন, আমেরিকা বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোকে সবসময় সংলাপের আহবান জানিয়েছে। কিন্তু প্রধান দুই দল সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

নিশা দেশাই আরও জানান, বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাপারে আমেরিকার অবস্থান স্পষ্ট। আমেরিকা চায় সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি। এ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয়।

সব রাজনৈতিক দলকে সুন্দর একটি রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে অন্যান্য দেশগুলোকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সহিংসতা বন্ধের আহবান জানিয়ে নিশা দেশাই বলেন, গণতন্ত্রে সহিংসতা কাম্য নয়। দেশটিতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে বিঘ্ন করবে।

দ্বিতীয় প্যানেলে অংশ নেন ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেইফটি’র পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এলেন টশার এবং ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটি’র নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আকতার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সিনেট কমিটিতে এটি তৃতীয় শুনানি। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে সিনেট কমিটিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।