আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছে উদ্যোক্তারা

0
136

GP_Telenorপুঁজিবাজারে টেলিকম খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড এবারও আয়ের চেয়ে বেশি হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত চার বছর ধরে কোম্পানিটি আয়ের চেয়ে বেশি হারে লভ্যাংশ দিচ্ছে। রিজার্ভ অর্থ থেকে যোগান দেওয়া হচ্ছে লভ্যাংশের জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি অর্থ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে এ প্রবণতা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোম্পানিটির বিদেশী উদ্যোক্তারা বাড়তি অর্থ প্রত্যাবাসনের জন্য এ পথ বেছে নিয়েছে। কারণ লভ্যাংশ ছাড়া বৈধভাবে অর্থ প্রত্যাবাসনের আর কোনো সুযোগ নেই। গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ারের মালিক নরওয়ের কোম্পানি টেলিনর মোবাইল কমিউনিকেশনস।

বিশ্লেষকদের আশংকা এভাবে অর্থ প্রত্যাবাসন করা হলে কোম্পানির রিজার্ভ শুণ্যের কোঠায় নেমে আসতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তেমনটি হলে কোম্পানির শক্তি অনেক কমে যাবে। তাদের মতে, বিষয়টি ঋণ করে ঘি খাওয়ার মত হয়ে যাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৩ সালের জন্য ১৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ঘোষিত ৯০ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ রয়েছে। অথচ আলোচিত বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ১০ টাকা ৪৯ পয়সা। ২০১৩ সালে কোম্পানির ইপিএস কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। কিন্তু ইপিএস কমলেও লভ্যাংশ রয়েছে অপরিবর্তিত।

গ্রামীণফোন লিমিটেড ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথম বছর কোম্পানিটি আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ওই বছর এর ইপিএস ছিল ১২ টাকা ৮ পয়সা। এর বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয় ৬০ শতাংশ বা শেয়ার প্রতি ৬ টাকা। কিন্তু পরের বছরগুলো থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে।

২০০১০ সালে গ্রামীণফোনের ইপিএস ছিল ৭ টাকা ৯৩ পয়সা। কিন্তু কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১২ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশের পরিমাণ শেয়ার প্রতি আয়ের চেয়ে ৪ টাকা ৭ পয়সা বা ৫১ শতাংশ বেশি।

২০১১ সালে ১৩ টাকা ৯৯ পয়সা আয়ের বিপরীতে শেয়ার প্রতি ২০ টাকা ৫০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত লভ্যাংশ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয়ের চেয়ে ৬ টাকা ৫১ পয়সা বেশি।

২০১২ সালে গ্রামীণফোন শেয়ার প্রতি ১২ টাকা ৯৬ পয়সা আয় করে। আর লভ্যাংশ দেয় শেয়ার প্রতি ১৪ টাকা। আয়ের চেয়ে লভ্যাংশ বেশি ১ টাকা ৪ পয়সা।

পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১০ সালে গ্রামীণফোন লভ্যাংশের জন্য আয়ের চেয়ে বাড়তি ব্যয় করেছে ৫৪৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরের বছর এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৭৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ২০১১ সালে কোম্পানিটিকে বাড়তি ব্যয় করতে হয় ১৪০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৩ সালের জন্য বাড়তি ব্যয় হবে ৪৭৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। চার বছরে এভাবে বাড়তি ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর ৯০ ভাগ শেয়ারের মালিক হিসেবে মোট টাকা থেকে উদ্যোক্তারা নিয়ে যাচ্ছে ১ হাজার ৮৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। শুধু টেলিনর নিচ্ছে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।

উল্লেখ, গ্রামীণফোনে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানার অংশ মাত্র ১০ ভাগ। বাকী ৯০ শতাংশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৫ দশমিক ৮০ ভাগ শেয়ারের মালিক টেলিনর মোবাইল কমিউনিকেশনস। আর ৩৪ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের।

উল্লেখ, ২০০৯ সালে ৬০ টাকা প্রিমিয়ামে বাজারে শেয়ার ছাড়ে গ্রামীণফোন লিমিটেড।