সার্কিট ব্রেকার কী?

0
196

Circute_Breakerসার্কিট ব্রেকার হচ্ছে পুঁজিবাজারে একদিনে শেয়ারের দর পরিবর্তনের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা। শেয়ার বা সিকিউরিটিজের কেনা-বেচার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দাম এই সীমার বাইরে চলে গেলে কেনা বা বেচার ওই আদেশ কার্যকর হয় না। ইলেকট্রনিকস ডিভাইসে সার্কিট ভেঙ্গে গেলে যেমন বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তেমনই পুঁজিবাজারে মূল্য পরিবর্তন-সীমা অতিক্রম করলে লেনদেন বন্ধ হয়ে পড়ে। তাই একে সার্কিট ব্রেকার বলা হয়।

বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্কিট ব্রেকার বা দর পরিবর্তনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ। অর্থাৎ একদিনে একটি শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। একইভাবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমতে পারে। তবে শেয়ারের দর ভেদে মূল্য পরিবর্তনসীমার ৬ টি ধাপ আছে। এগুলো হচ্ছে-৩.৭৫ শতাংশ, ৫ শতাংশ, ৬.২৫ শতাংশ, ৭.৫ শতাংশ, ৮.৭৫ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ।

২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ২০ শতাংশ। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে সূচিত ধসের পর থেকে বাজারে শেয়ারের বড় দর পতন হতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় বড় দর পতন ঠেকাতে সার্কিট ব্রেকারের সীমা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। চালু করা হয় নতুন সীমা। এতে কম দামের শেয়ারে দর পরিবর্তনের বেশি সুযোগ এবং দামি শেয়ারের ক্ষেত্রে দর পরিবর্তনের কম সুযোগ রাখা হয়।

বর্তমান সার্কিট ব্রেকার অনুসারে বাজারে কোন শেয়ারের দর ২০০ টাকার কম হলে একদিনে ওই শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে বা কমতে পারবে। তবে দর হ্রাস-বৃদ্ধির পরিমাণ কোনভাবেই সাড়ে ১৭ টাকার বেশি হতে পারবে না। একইভাবে শেয়ারের বাজার মূল্য ২০১ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৮.৭৫ শতাংশ বা ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা,৫০১ টাকা থেকে ১০০০ টাকা মূল্যের শেয়ারের ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ শতাংশ বা ৬২ টাকা ৫০ পয়সা,১০০১ টাকা থেকে ২০০০ টাকা মূল্যের শেয়ারের ক্ষেত্রে ৬.২৫ শতাংশ বা ১০০ টাকা,২০০০ থেকে ৫০০০ পর্যন্ত ৫ শতাংশ বা ১৮২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ৫০০০ টাকার বেশি মূল্যের শেয়ারের ক্ষেত্রে একদিনে ৩.৭৫ শতাংশ বা ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে বা কমতে পারবে।

সূত্র: পুঁজিবাজার শব্দকোষ