তাইনানে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, আটকা ১৩২

0
5
Tainan (12)

তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলে তাইনান শহরে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ১৬তলা ভবনে উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়া মানুষগুলোকে উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন উদ্ধারকর্মীরা। গতকাল শনিবার ভোরে ভূমিকম্পের পরই শুরু হয় উদ্ধার কার্যক্রম। আজ রোববার সকাল পর্যন্ত ওই ধ্বংসস্তুপ থেকে ১৮ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া আহতাবস্থায় আরও শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আহতদের।

Tainan (17)
তাইনানে ধসে পড়া ১৬তলা ভবন।

উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গতকাল দুর্ঘটনার পর থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত ১৮ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনই গতকাল দুর্ঘটনার পরপরই নিহত হয়। অন্য দুজনকে আহতাবস্থায় উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ১০ মাসের একটি শিশুসহ ৩টি শিশুর মরদেহ রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন নারীর মরদেহও রয়েছে।

তাইনানের মেয়র উইলিয়াম লাই ভোরে বলেন, ধস হওয়া ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পর ধারণা করা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত ১৩২ জন বাসিন্দা ওই ভবনের নিচে আটকে আছে। তাদের মধ্যে ১০৩ জন ধসের গভীরে চাপা আছে। তাদের উদ্ধার করে আনা খুব কঠিন হলেও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে উদ্ধারকর্মীরা।

তাইনানের অগ্নিনির্বাপক বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা লি পো মিন বলেন, ওই ভবনে ১০০ এর বেশি পরিবার বসবাস করোত। ঘটনার আগের রাতে সেখানে ২৪০ জনের মতো বাসিন্দা ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ১৮ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, ভবনের কিছু অংশ দুমড়েমুচড়ে পাশের দুটি টাওয়ারের নিচে পড়েছে। সেখানে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পে বহুতল ভবন ও এর আশপাশের ভবনের কাঠামো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই দুমড়েমুচড়ে যাওয়া টাওয়ারগুলোতে কিছু সংস্কারকাজ করে উদ্ধারের জন্য খননকাজ করতে হচ্ছে। ক্রেন, মই, শিকারি কুকুর ব্যবহার করে ইতোমধ্যে শতাধিক মানুষকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ওই ভবনের আবাসিক কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন না করেই ওই ভবনে ভাড়াটে হিসেবে ছিল। সব মিলিয়ে সাড়ে ৩০০ এর বেশি মানুষ ওই ভবনে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনও শতাধিক মানুষ ওই ধ্বংসস্তুপে আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, তাইওয়ানে এর আগেও ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০১৩ সালে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে চারজনের মৃত্যু হয় ও ব্যাপক ভূমিধস হয়। ১৯৯৯ সালে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে দুই হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

অর্থসূচক/এমই/