অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করবে সরকার

0
145

Amu..sugarরাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল ও দেশের আখ চাষিদের সুরক্ষায় অপরিশোধিত চিনি আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি আশা প্রকাশ করেন এর ফলে দেশের আখ চাষিরা উপকৃত হবে এবং চিনির বাজারও স্থিতিশীল হবে।

বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশন নেতাদের সাথে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি এসময় আখ চাষিদের পাওনা পরিশোধসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার চায় দেশি শিল্পের বিকাশ ঘটুক। তাই সরকার আমদানি পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দেশি শিল্প বিকাশে  উদ্যোগি হয়েছে।

চিনি অন্যতম ভোগ্যপণ্য হওয়ার কারণে এই পণ্যটির ওপর আমদানি নির্ভরতা কমানো ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে আমাদের চিনির যে চাহিদা তার তুলনায় বেশি চিনি আমদানি করা হয়্। ফলে বিদেশি চিনিতে বাজার ভরা থাকলেও দেশি চিনি কলের গুদামে অনেক চিনি পরে থাকে।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন আগামি বাজেটে র’সুগারের ওপর ধার্য করা আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংক ঋণের ওপর সুদের হার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

ওই প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় যে, ডেফার্ড এলসির মেয়াদ ১৮০ দিন থেকে ২৪০ কিংবা ৩০০ দিন নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বাজারে চিনির মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত মিলগুলোর উৎপাদিত চিনির মূল্য ও বেসরকারি সুগার রিফাইনারি মিলের উৎপাদিত চিনির একক মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এছাড়াও ওই প্রস্তাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে সুগার রিফাইনারিগুলোর চিনি ইউরোপে রপ্তানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আজকের এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মাহমুদউল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাজাহারুল হক প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহজাহান আলী বাদশাসহ প্রমূখ।

বৈঠকে ফেডারেশনের নেতারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পনেরটি চিনিকলে ২০১৩-২০১৪ মাড়াই মৌসুমে আখ চাষিরা এ পর্যন্ত বিক্রিত আখের বিপরীতে প্রায় শত কোটি টাকা পাওনা রয়েছেন। তাঁরা এ টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে শিল্পমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রয়োজনে তাঁরা আখের পাওনা বাবদ চাষিদের অনুকূলে টাকার পরিবর্তে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চিনি বরাদ্দের দাবি জানান।

তাদের আশ্বস্ত করতে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ জন্য জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে বর্তমান সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো শিল্প কারখানা বিক্রি করবে না। যে সব কারখানা বর্তমানে লোকসানি রয়েছে, বিএমআরই ও পণ্য বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে সেগুলোকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের বার্ষিক চিনির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে চালু থাকা ৫টি রিফাইনারি মিলের বার্ষিক উৎপাদনের ক্ষমতা প্রায় ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। মোট চাহিদার প্রায় ৯০ ভাগ রিফাইনারিগুলোর মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। বাকি ১০ ভাগ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন ও আমদানিকারকরা পূরণ করে থাকে। বর্তমানে র’সুগার ও সাদা চিনির ওপর আমদানি শুল্ক কর ধার্য রয়েছে যথাক্রমে টনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ ও ৩ হাজার টাকা।

জিইউ