টেকসই উন্নয়নের জন্য বাজেটে ভবিষ্যত পরিকল্পনা থাকা জরুরি

0
45

atiurদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থবছরের বাজেট উন্নয়ন বান্ধব হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সেই সাথে বাজেটে সুদূর প্রসারি পরিকল্পনাও থাকা আবশ্যক বলে মনে করে তিনি। তার মতে এই ধরনের বাজেটই টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট মিলনায়তনে বাজেট অ্যান্ড পলিসি সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাজেটে টেকসই উন্নয়নের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। শুধু বর্তমানের কথা ভেবে বাজেট প্রণয়ন করলে চলবে না। আমাদের ভবিষ্যতের কথা বেশি ভাবতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের বিভিন্ন বক্তব্যের আলোকে লেখা বই ‘ইনকুলুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’ বইয়ের ওপরও আলোচনা করা হয়।

গভর্নর বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে বলেন, ‘বাজেট এখন আর ছোট ঘটনা নয়। এখন বাজেট ঘোষণার কয়েক মাস আগ থেকেই বিভিন্ন আলোচনা, সমালোচনা হতে থাকে। অর্থমন্ত্রীও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে আলোচনা করেন। এভাবে বাজেটকে সমন্বয় করা হয়।’

তাই বাজেট নিয়ে বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে একটি বাজেটে প্রনয়নকারী সরকারের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গী প্রতিফলিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে বইয়ের ওপর আলোচনা করেন বিআইবিএম এর পরিচালক জেনারেল ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের ডীন প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার বজলুল হক, পূবালী ব্যাংক লি: এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও হেলাল আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান ও এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. কাজী মারুফুল ইসলাম এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. সেলিম রায়হান প্রমুখ।

আমাদের শিক্ষা খাতে সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে আরিফীন সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার মান ধরে রাখার জন্য আমাদের সবার আগে শিক্ষা খাতের সংস্কার করতে হবে। আর এ কাজ প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই শুরু করতে হবে বলে তিনি জানান।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে। আর এ জন্য তিনি গঠন করেছিলেন ড. কুদরাত-ই-ক্ষুদা শিক্ষা কমিশন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর এ উদ্যোগ থেমে গেছে। ফলে এখন তৈরি হয়েছে নানা মুখী শিক্ষা ব্যবস্থা। আবার একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করে শিক্ষা খাতের অগ্রগতি ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশর স্বাধীনতার স্বপ্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। আর এ জন্য শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়োতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার বজলুল হক ব্যবসা বাণিজ্যের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করার প্রস্তাব করে বলেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যে বেশির ভাগ প্রশাসন এবং কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা যে দুর্নীতি করে তা ধরা পড়ে না। তাই ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি উদঘাটন এবং তা প্রতিরোধের জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করার দরকার।

তিনি ব্যাংকের সিঙ্গেল ব্রোয়ার এক্সপোজাল ছোট করারও প্রস্তাব করেন।

তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ সেখানে মানিটারি সিস্টেম পরিচালিত হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিবর্তে মন্ত্রণালয় দ্বারা যা বিশ্বের আর কোন দেশে নেই বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারিতে ব্যাংকিং সেক্টরে এখন ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতি অগ্রগতি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিচ্ছে। এ কারণে বিশ্বের বড় বড় দেশ এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে বলে তিনি জানান। দেশ যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ৫০০ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।