নারীর প্রতি সহিংসতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি সব জেলায় নারী জাগরণ

0
42

নারী নির্যাতননারীদের প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেক জেলায় নারী জাগরণ অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন ‘উদ্যম উত্তরণে শত কোটি’ সংগঠনের সমন্বয়ক খুশী কবির। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

এ সময় খুশী কবির বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি নারীরা আদালত, পুলিশ স্টেশন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, বিদ্যালয়সহ যে যার কর্মস্থলে একত্রিত হয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে। ঢাকায় হাইকোর্টের সামনে দুপুর ২টায় ও প্রত্যেক জেলায় নারীরা একত্রে লাল রঙের পোশাক পরে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানাবে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৩০০টি সংগঠন নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে দেশের সবকয়টি জেলায় সর্বস্তরের ৩০ লক্ষাধিক নারীরা এ নারী জাগরণে অংশগ্রহণ করেছিল। এবার তার চেয়ে অনেক বেশি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে খুশী কবির জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, বিশ্বে প্রতি ৩ জন নারীর মধ্যে ১ জন জীবদ্দশায় একবার সহিংসতা বা ধর্ষণের শিকার হন। এই হিসেবে সারা বিশ্বে নির্যাতিত নারী ও শিশুর সংখ্যা দাঁড়ায় শতকোটিরও বেশি।

এ সংগঠনের ব্যানারে ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর ২০৬টি দেশের ৪০০ সংগঠনের প্রায় এক কোটি নারীর গণ-জমায়েত হয়। সে হিসেবে এটি নারীদের সবচেয়ে বড় জোট বলে দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নীরা নির্যাতনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। ২০০২-১৩ পর্যন্ত বাংলাদেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৮৬২ জন নারী ও শিশু। এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও বিচার হয় না। আইনের ফাঁক-ফোঁকর, অবৈধ লেনদেন আর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। ন্যায় বিচার না পাওয়ায় নির্যাতিত হওয়ার পরও নারীরা বিচারের জন্য আসতে চায় না।

নারীর প্রতি সরকার, রাজনীতিবিদ ও সর্বোপুরি দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে নারী নির্যাতন কোনোদিন বন্ধ হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের প্রতিকার চেয়ে সাংগাতের কোর কমিটির সদস্য ফৌজিয়া খন্দকার বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াতে নারীরা আইনের প্রতি আস্তা হারিয়ে ফেলছে। কল্পনা চাকমার কথাই ধরা যাক, অপহরণের ১৮ বছর পরও কোনো বিচার হয়নি।

মনিরামপুরে ধর্ষণের ঘটনাসহ অনেক আলোচিত ঘটনা ঘটলেও কোনো বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নারী সহিংসতা বন্ধ ও এর বিচারের জন্য নারীদের সোচ্চারের পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হওয়ার আহবান জানান তিনি।

একশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, সকল সীমাবদ্ধতা, বাধ্যবাধকতা, লজ্জা, অপরাধবোধ, দু:খ, কষ্ট, গ্লানি, রাগ আর বিপত্তিকে পেছনে ফেলে সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণের জন্য আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্যম উত্তরণে শতকোটি সংগঠন ছাড়াও প্রায় ২০ মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের নারী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ