ট্রাভেলার্স চেকে ভোগান্তি

0
54

travelers-checksকানাডা প্রবাসী সুমন সরোয়ার এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন।ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক কার্ড (ডেবিট ও ক্রেডিট)না থাকায় টাকার সরবরাহ নিতে আশ্রয় নিয়েছেন ট্রাভেলস চেকের (টিসি)।কানাডার একটি ব্যাংক তাকে এ টিসি ইস্যু করলেও তা নিয়ে দেশে এসে বিপদে পড়েছেন তিনি।দেশের কোন ব্যাংকই তাকে এ ট্রাভেলস টেক ভাঙ্গিয়ে টাকা দিচ্ছে না।ফলে তিনি নগদ টাকার সংকটে পড়েছেন।দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হাত পাতছেন আত্নীয় স্বজনের কাছে।

সুমন অর্থসূচককে জানান,গত কয়েকদিন আগে তিনি দেশে এসেছেন।সাথে নিযে এসেছেন ২ হাজার ডলারের একটি ট্রাভেলস চেক।ইচ্ছা ছিল এ চেক ভাঙ্গিয়ে আত্নীয় স্বজনদের জন্য কিছু কেনাকাটা এবং নিজের প্রয়োজন মেটাবেন।চেকটি ভাঙ্গানোর জন্য সব ব্যাংকে গেলেও কোন ব্যাংকই তাকে এ চেক ভাঙ্গিয়ে দিচ্ছে না বলে তিনি জানান।তিনি বলেন,চেকটি নিয়ে প্রায় সব ব্যাংকেই গিয়েছি, কোন ব্যাংকই ভাঙ্গাতে রাজি হয়নি।কেন ভাঙ্গিয়ে দিচ্ছে না তাও ব্যাংকগুলো কিছু বলছেন না।সর্বশেষ সোনালী ব্যাংক থেকে ফিরে এসেছেন বলে তিনি জানান।

এর আগে আরাফাত রহমান নামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণ একই সমস্যায় পড়েন বলে জানা গেছে। তার আত্মীয় শোয়েব আহমেদ জানান, তাদের কাছ থেকে ধার নিয়ে কয়েকদিন দেশে অবস্থানকালে নানা ব্যয় মেটান তিনি। নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যান।

আলোচিত দুই তরুণ বাংলাদেশী হওয়ায় এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে অনেক বিদেশিও এমন সমস্যায় পড়েন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন,ট্রাভেলস চেক ভাঙ্গানো যাবে না এ ধরণের কোনো নির্দেশনা নেই।তবে বিভিন্ন ধরণের ঝামেলা থাকায় কেই আর ট্রাভেলার্স চেক নিতে চায় না।তাছাড়া টিস‌ি’র মাধ্যমে কিছু জালিয়াতির ঘটনা ঘটায় ব্যাংকগুলো এটা নিতে অনাগ্রহ দেখায় বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম.মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন,প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন ব্যাংক কার্ডই বেশি ব্যবহৃত হয়। তাৎক্ষণিক টাকা তোলা এবং কেনাকাটায় কার্ডই ব্যবহার করেন গ্রাহকরা।এ কারণে ট্রাভেলার্স চেকের কথা এখন আর শোনাই যায় না।

তিনি আরও বলেন,টিসি নিয়ে কিছু জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে।এ কারণে অনেক ব্যাংক এটা নিতে চায় না।তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা নেই বলে তিনি জানান।