‘রেশম পণ্যের জন্য নেপাল ভালো মার্কেট’

0
41

রেশমি কাপড়নেপালের রাষ্ট্রদূত হরি কুমার শ্রেষ্ঠ বলেছেন, ‘রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম পণ্যের জন্য নেপাল বড় বাজার না হলেও ভালো মার্কেট। উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে বাণিজ্যি সর্ম্পক উন্নয়নের মাধ্যমে নেপালে রেশম পণ্যের বাজার প্রসারিত করা যেতে পারে। আর এক্ষেত্রে নেপালের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির (বিআরএসএমএস) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

রাজশাহী মহানগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় নেপালের রাষ্ট্রদূত হরি কুমার শ্রেষ্ঠ আরও বলেন, ‘অনেক নেপালিরা ভারতের মহিশুর সিল্ক, বেনারসি কাপড়ের সঙ্গে বেশ পরিচিত। তবে অনেকেই গুনে-মানে অনন্য রাজশাহী রেশম কাপড়কে চেনে না।’

এ সময় নেপালসহ বিশ্বব্যাপী রেশম পণ্য প্রসারের জন্য তিনি প্রচার-প্রচারণার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ বিষয়ে তিনি উভয় দেশের ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি যোগাযোগ বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘নেপালে রাজশাহী রেশম কাপড়ের পরিচিতি ঘটাতে হবে। সেজন্য উভয় দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মেলা বা প্রদশর্নীতে অংশগ্রহণ করা জরুরি। এসব মেলা বা প্রদশর্নীতে যতো বেশি অংশগ্রহণ করা যাবে ততো বেশি নেপালিদের মাঝে রাজশাহীর রেশম পণ্যের পরিচিতি লাভ করবে’।

নেপালি গ্রাহকদের মাঝে রেশম পণ্যে আলাদা আগ্রহ রয়েছে। নেপালে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলায় ঢাকার স্টলগুলো ক্রেতারদের বেশ ভিড় লেগেই থাকতো বলে জানান হরি কুমার শ্রেষ্ঠ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আকাশ পথের চেয়ে স্থল পথ দিয়ে নেপানের সঙ্গে ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এতে দুই দেশের পক্ষে ব্যবসায়িক লেনদেন আরও বেশি সহজের পাশাপাশি পরিবহন খরচও অনেকাংশে কমে যাবে’।

এ সময় তিনি পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর থেকে নেপালের ভূ-খন্ডের দূরত্ব মাত্র ৫২ কিলোমিটার। এ সামান্য পথে বাণিজ্য করতে পারলে উভয় দেশের পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে। শুধু সিল্ক নয় আরও অনেক ধরনের পণ্য এ স্থল বন্দর দিয়ে দুই দেশ ব্যবসা প্রসার করতে পারে’।

এ সময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন নেপালের রাষ্ট্রদূত।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নেপালের রাষ্ট্রদূত হরি কুমার শ্রেষ্ঠ’র স্ত্রী শেগুনতলা ও নির্মল প্রসাদ বাথাড়ি।

বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী, সহ-সভাপতি ওবায়দুর হক জীবন, সাধারণ-সম্পাদক আরিফ আহসান টিটো, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের মুন্না, প্রচার-সম্পাদক নাজমুল হক নান্টু, কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম সাবু, দপ্তর-সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ডিটল, নির্বাহী সদস্য ইউসুফ আলী, তহিদুল আলম, সাজ্জাদ আলী, নাদিম, মোবাশেরুল ইসলাম মোবা। মতবিনিময় সভাটি পরিচালনা করেন, সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেলাল।

মতবিনিময় শেষে নেপালের রাষ্ট্রদূত বেসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত রেশম কারখানাগুলো ঘুরে দেখেন।