নির্বাচন করতে কঠোর হচ্ছে আওয়ামী লীগ

0
105
AL-Logo

AL-Logoআগামি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এজন্য বিরোধী দলের সকল নাশকতা ও কর্মসূচিকে রুখতে তারা প্রস্তুত। যে কোনও মূল্যে যথাসময়ে নির্বাচন করতে চায় দলটি। সে লক্ষ্যেই তারা তৈরী এখন করছেন নানা কৌশল। একটি নির্দিষ্ট ছকে এগুচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। এমন কথাই জানা গেছে দলটি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে।

এদিকে ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার থেকে। এদিকে তফশীল ঘোষণারর সাথে সাথেই মাঠে নেমে পড়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।তারা তফসিল প্রত্যাখান করে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে।

দলটির নেতারা আরো্ জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচি দমনে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ কৌশল। সারা দেশে তাদের নাশকতামুলক কর্মসূচি প্রতিহত করতে পুলিশ প্রশাসনসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারেও নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম অর্থসূচককে বলেন, বিরোধী দল নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তবে নির্বাচন বানচালের নামে যারাই নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করবে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্যান্য ছোট ছোট দলকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে লিয়াজো রক্ষা করছেন। নানা লোভনীয় অফারের টোপ ফেলছেন তারা। তাদের এই টোপে কয়েকটি বাম দল, ইসলামিক দল এবং ১৮ দলীয় জোটের শরীক  কিছু দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি করাতে পেরেছেন বলে জানায় দলটি একটি সূত্র।

এর মধ্যে জাতীয় পার্টি, জেপি, জাসদ, ওয়াকার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, ত্বরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রণ্ট মতও কিছু দল প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিলেও বাকি দলগুলো গোপনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তাদের। এর মধ্যে হেফাজতে ইসলামের শরীক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃত্বে তিনটি দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা অর্থসূচককে বলেন, খালেদা জিয়া তার জোটের নেতাদের ধরে রাখতে পারবেন না। নির্বাচন বর্জন করলে তিনি একা হয়ে পড়বেন। পরবর্তীতে তাকে নিজের দল রক্ষার জন্য মাঠে নামতে হবে।

তবে দেরীতে হলেও বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি বিএনপি তলে তলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু তাদের মিত্র জামায়াতের চাপে পড়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে কোন সমস্যা নেই। নির্বাচনে সব দল অংশ নিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আমাদের দেখতে হবে নির্বাচনে জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিল কিনা?

এ ব্যাপারে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দেশের সব গাড়ি ভেঙে ফেললেও যথাসময়ে নির্বাচন হবে। কোনও রাজনৈতিক দল চাইলে নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারে।

এ বিষয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভোটের বাক্সে লাথি মারার কথা বলে মাওলানা ভাসানী যেমন ৭০ এর নির্বাচন ঠেকাতে পারেন নি। তেমনি খালেদা জিয়াও আগামী নির্বাচন ঠেকাতে পারবেন না।

বিরোধী দলকে ছাড়া নির্বাচন করার যে ছক আঁকছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাতে বিএনপি নানা কর্মসূচির মাঝে কতটা টিকে থাকবে তাদের কৌশল এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এমআইকে