ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেললাইন উৎপাটন,ট্রেনে আগুন,১৮জন আটক

0
107
BBaria

BBariaটানা ৪৮ ঘন্টা অবরোধের প্রথম দিনে মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে রেললাইনে আগুন,ট্রেনে ককটেল ছুঁড়ে মারা,রেললাইনের পাত উপড়ে ফেলা ও ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে।এতে সকালেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া স্টেশনে আটকা পড়ে বেশ কয়েকটি ট্রেন।সহিংসতা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে জেলা সদরে ২ প্লাটুন ও কসবা উপজেলায় ২ প্লাটুনসহ মোট ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করেছে প্রশাসন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কসবা ইমামবাড়ি রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। আগুনে ট্রেনের একটি বগী ও ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ইমামবাড়ি স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া বলেন,অবরোধকারীরা প্রথমে ট্রেনের একটি বগি ও পরে ইঞ্জিনে আগুন দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

এদিকে সোমবার রাতে অবরোধকারীরা ইমামবাড়ি স্টেশনের কাছে রেলপাত উপড়ে ফেলে। মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু করলে ভোরে কসবা ও ইমামবাড়ি স্টেশনের মাঝামাঝি নোয়াপাড়া এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় রেললাইন তুলে ফেলা হয়।এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী ট্রেনকে আখাউড়া স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রেনকে লক্ষ্য করে ৩টি ককটেল নিক্ষেপ করে অবরোধকারীরা।এতে কেউ হতাহত হয়নি।

এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,সোমবার গভীর রাতে সালদা নদী ও মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে রেলওয়ের ব্রীজে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। রাতেই ইমামবাড়ি স্টেশনের কাছে রেলপাত উপড়ে ফেলা হয়। মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু করলে ভোরে কসবা ও ইমামবাড়ি স্টেশনের মাঝামাঝি নোয়াপাড়া এলাকায় আবারো রেলপাত উপড়ে ফেলা হয়।এতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ( সন্ধ্যা ৬টা)ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেশন মাস্টার অমৃত লাল বলেন,কসবায় রেললাইন উপড়ে ফেলায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতী ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে,নোয়াখালীগামী উপকুল এক্সপ্রেস তালশহর স্টেশনে, তূর্ণা নিশিথা, উদয়ন এক্সপ্রেস,কর্ণফুলী এক্সপ্রেস,নাছিরাবাদ ও বাল্লা লোকাল ট্রেন আখাউড়া রেলয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন গত সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতার ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে ১৮জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।